নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চাকরির সন্ধানে অযোধ্যা থেকে ‘রামজি’ স্বয়ং হাজির হলেন বাংলায়! উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা জেলার গোন্ডা গ্রামের যুবক রামজি মিশ্রা। এসএসসি’র শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা দিতে রবিবার মালদহে আসেন তিনি। সিট পড়েছিল মালদহ উইমেন্স কলেজে। শুধুমাত্র উত্তরপ্রদেশ নয়, ঝাড়খণ্ড, বিহার, দিল্লি, রাজস্থান সহ নানা রাজ্য থেকে এদিন পরিযায়ী পরীক্ষার্থীরা এসেছেন। এসএসসি’র হিসেব বলছে, ৩১ হাজারের বেশি ভিন রাজ্য থেকে আসা চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষায় বসেছেন। সংখ্যাটা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১০ শতাংশ। রাজনৈতিক মহলের দাবি, বিজেপি বা এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলিতে ঢালাও সরকারি চাকরি বা বিপুল কর্মসংস্থানের যে ‘মিথ’ গড়ে তোলা হয়েছে, এই পরিসংখ্যানই তা ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
শিলিগুড়ি গার্লস হাইস্কুলে সিট পড়েছিল যোগীরাজ্যের যুবক প্রদীপ ভার্মার। পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে তিনি বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশে শূন্যপদ নেই। তিনবার পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। কোনও নিয়োগ হয়নি। আর ভরসা করতে পারছি না। তাই এখানে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা দিতে এসেছি।’ তিনি জানান, তাঁর রাজ্য থেকে এক হাজারের বেশি চাকরিপ্রার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিতে এসেছেন।
এই আবহে রাজ্যের শাসক দলের বক্তব্য, কয়েক মাস আগে বিহারে চাকরি দিতে যাওয়া বাংলার পরীক্ষার্থীদের নিয়ে বিরাট হইচই হল। এখানে না হয় আইনি জটিলতায় নিয়োগ থমকে রয়েছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে নাকি চাকরির ছড়াছড়ি! তাহলে কেন দলে দলে তরুণ-তরুণীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখাপেক্ষী হতে হচ্ছে? এতেই তো ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যে কর্মসংস্থানের কঙ্কালসার চেহারাটা স্পষ্ট হয়ে গেল। বিজেপির এক নেতা আবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ‘ভালো পরীক্ষা দিলেও বিজেপি শাসিত রাজ্যের বাসিন্দা বলে তাঁদের শূন্য দেওয়া হবে না তো!’ এরকম রাজনৈতিক আকচাআকচি চলছেই!
এদিকে, এসএসসিতে ভিন রাজ্যের এত সংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর অংশগ্রহণ একটি ‘অস্বাভাবিক বিষয়’ বলে দাবি করেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। জলপাইগুড়িতে একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসে তিনি বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক ঘটনা নয়। আসলে টাকা দিলেই যে বাংলায় চাকরি মেলে, এটা সারা দেশে প্রচারিত হয়েছে। তাহলে কি টাকার থলি নিয়েই এখানে এসএসসি পরীক্ষা দিতে এসেছেন ভিন রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীরা?’ স্বভাবতই তাঁর এহেন মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কারণ, ভিন রাজ্যের প্রার্থীরাই স্বীকার করছেন, বাংলায় পরীক্ষা দিতে আসার কারণ অন্য। যেমন, উত্তরপ্রদেশে ২০১৯ সালের পর থেকে সরকারি শিক্ষক নিয়োগই হয়নি। প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা বাতিলের মতো ঘটনা অহরহ ঘটছে। পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও তাঁরা ওয়াকিবহাল। তবে এখানকার অভিযোগগুলি তাঁদের রাজ্যের অনিয়ম বা দুর্নীতির ধারেকাছে পৌঁছবে না বলেই দাবি করেছেন তাঁরা। পরীক্ষার যাবতীয় ব্যবস্থাপনায় খুশি ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থীরা। বরং চাকরিহারা শিক্ষক পরীক্ষার্থী এবং নতুন পরীক্ষার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে ‘এগিয়ে থাকার’ অভিযোগ তুলেছেন। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি বোধগম্য হয়নি ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থীদের কাছে। তাই অনেকে জানতে চেয়েছেন ‘এগিয়ে থাকা’ নিয়ে বিতর্কের বৃত্তান্ত।