নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চুঁচুড়া শহরে একগুচ্ছ হাইমাস্ট লাইট দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। সেসব সারানোর কোনও উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে না। এ নিয়ে জোর সমালোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে, পুরকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হাইমাস্ট বসানো ও তার রক্ষণাবেক্ষণের কাজ পুরসভা করবে না। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এনিয়ে নাগরিক ক্ষোভ ও ডামাডোলে বাড়তি মাত্রা জুড়েছে চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদারের একটি সিদ্ধান্ত। তিনি শহরে নতুন করে আরও কিছু হাইমাস্ট লাইট বসানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই কয়েকটি বসানো হয়েছে। ফলে, বিতর্ক আরও পাকিয়ে উঠেছে। এমনিতেই পুরসভার চেয়ারম্যান ও বিধায়কের সম্পর্ক শহরে বিশেষ চর্চার বিষয়। হাইমাস্ট লাইটকে কেন্দ্র করে তা ফের প্রকাশ্যে এসেছে।
চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অমিত রায় বলেন, সম্প্রতি কলকাতায় পুরদপ্তরের ডাকা এক বৈঠকে কর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হাইমাস্ট লাইট বসানো ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ পুরসভা করবে না। হাইমাস্টে বিদ্যুতের খরচ বেশি। তাছাড়া এই আলো খারাপ হয়ে গেলে মেরামতের জন্য কলকাতা থেকে মেকানিক আনতে হয়। যা ব্যয় ও সময় সাপেক্ষ। অতীতে আমরা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেছি। এখনও আমরা বিদ্যুতের বিল মিটিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু নতুন করে আর কোনও হাইমাস্টের দায়িত্ব পুরসভা নেবে না।
শহরে নতুন করে হাইমাস্ট লাইট বসানোর উদ্যোগ প্রসঙ্গে অমিতবাবু বলেন, ওসব কারা করছেন, আমার জানা নেই। এনিয়ে চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, হাইমাস্ট লাইট শহরে প্রয়োজন। আমরা বেশ কিছু হাইমাস্ট লাইট আগে বসিয়েছি, ভবিষ্যতেও বসাব। আমি লাইট বসানোর উদ্যোগ নিতে পারলে তার রক্ষণাবেক্ষণের ভারও নিতে পারব। পুরসভা নাগরিক পরিষেবা সঠিকভাবে দিক। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের অনেক ক্ষোভ আছে। চুঁচুড়ার বাসিন্দা তথা সিপিএম নেতা মনোদীপ ঘোষ বলেন, বিচিত্র বিষয়। সবাই নাগরিক স্বার্থের কথা বলছেন, তা নিয়েই বিবাদ করছেন। কিন্তু বাস্তবে নাগরিক সমস্যা মিটছে না।
২০১৯ সাল থেকে হুগলির চুঁচুড়ায় লাগাতার হাইমাস্ট আলো বসানো হয়েছে। চুঁচুড়া ময়দান থেকে শুরু করে শহরের বিশেষ বিশেষ এলাকায় একের পর এক আলো বসেছে। এরমধ্যেই কামারপাড়া, পিপুলপাতি, চুঁচুড়া ময়দান, ষণ্ডেশ্বরতলা সহ একাধিক জায়গায় হাইমাস্ট আলো খারাপ হয়ে গিয়েছে। তা নিয়ে নাগরিকরা প্রশ্ন তোলায় পুরসভা বনাম বিধায়কের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও বেহাল হাইমাস্টগুলির কী হবে, তার উত্তর মেলেনি। ফাইল চিত্র