Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁশপাহাড়ীর খেড়িয়ারতা গ্রামে তৈরি হবে সেতু, বরাদ্দ ৪৪ লক্ষ টাকা, খুশি বাসিন্দারা

বাঁশপাহাড়ীর খেড়িয়ারতা গ্রামে তৈরি হবে সেতু, বরাদ্দ ৪৪ লক্ষ টাকা, খুশি বাসিন্দারা
  • ২৬ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বিনপুর-২ ব্লকের প্রত্যন্ত গ্ৰাম খেড়িয়ারতা। নদীর নামে গ্ৰামের নাম। বর্ষা এলেই ছোট্ট নদী বৃষ্টির জলে ফুলেফেঁপে ওঠে। জেলার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দ্বীপ হয়ে ওঠা গ্ৰামে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বাসিন্দাদের বসবাস করতে হয়। এবার জেলা পরিষদের উদ্যোগে নদীর ওপর ছোট সেতু তৈরি করা হবে। ৪৪ লক্ষ টাকা অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় খুশি গ্ৰামের বাসিন্দারা।

Advertisement

বাঁশপাহাড়ী গ্ৰাম পঞ্চায়েতের খেড়িয়ারতা গ্ৰামে তিনশোর মতো বাসিন্দার বসবাস। চাষবাস ও দিনমজুরি করে অধিকাংশ গ্ৰামবাসীর সংসার চলে। বর্ষা এলেই গ্ৰামবাসীদের আতঙ্ক শুরু হয়। নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো প্রতিবার হড়পা বানের জলে ভেঙে যায়। জেলার বাকি অংশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গ্ৰামটি তখন দ্বীপের চেহারা নেয়। নদীতে জল বাড়লে বাঁশের সাঁকো ভেঙে যায়। গ্ৰামবাসীরা নদী পেরিয়ে বাঁশপাহাড়ী এলাকায় বাজার, হাট, স্কুল ও হাসপাতালে আসা বন্ধ হয়ে। তখন গ্ৰামের অপর প্রান্তে দেশমূলা নদীর ওপর বাঁশের সেতু পেরিয়ে পুরুলিয়ার বান্দোয়ান ও চিরুডি এলাকায় যেতে হয়। প্রসূতিদের খাটিয়ায় চাপিয়ে নদী পার করতে হয়। কখনও মাস তিনেক আগে থেকেই প্রসূতিদের নদীর অপর পাড়ের বদ্রী গ্ৰামে এনে রাখতে হয়। বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, খেড়িয়ারতা নদীর ওপর সেতু তৈরির। সেই দাবি এতদিনে পূরণ হতে চলেছে। 
গ্ৰামের বাসিন্দা পাণ্ডব মুরা বলেন, গ্ৰামটি নদী দিয়ে ঘেরা। বর্ষায় খেড়িয়ারতা ও দেশমূলা নদীতে জল বাড়লে বাঁশের সাঁকো ভেঙে যায়। তখন আমাদের গ্ৰাম দ্বীপের মতো হয়ে যায়। বাঁশপাহাড়ীর বাজার এলাকায় হাট, স্কুল ও ব্যাঙ্ক রয়েছে। সেখানে নানা প্রয়োজনে নিত্যদিন যেতে হয়। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সমস্যা চরম আকার নেয়। অ্যাম্বুলেন্স বা প্রাইভেট কার নদীর ওপার পর্যন্ত আসে। ঝুঁকি নিয়ে অসুস্থদের নদীর জল পার করিয়ে নিয়ে যেতে হয়। বছরের পর বছর ধরে এমন চলছে। সেতুটি হলে আমাদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগের সমস্যা মিটবে। গ্ৰামের অপর বাসিন্দা মনসারাম মুরা বলেন, বর্ষা আমাদের কাছে আতঙ্কের। গ্ৰামটির চারদিকে নদী। তাতে জল বাড়লে বাঁশের সাঁকো ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাঁশপাহাড়ীর বাজার এলাকায় যাবার জন্য খেড়িয়ারতা নদী পার হওয়া ছাড়া গ্ৰামবাসীদের উপায় থাকে না। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না। প্রসূতিদের ছয়-সাত মাসে হলে নদীর অপর প্রান্তের বদ্রী গ্ৰামে গিয়ে রাখতে হয়। সেতু তৈরির জন্য প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন জানানো হয়েছে। সেতু তৈরি হওয়ার খবর শুনে গ্ৰামবাসীরা সকলেই খুশি। 
বাঁশপাহাড়ী গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান মমতা বারুই বলেন, বর্ষার সময় এই গ্ৰামের বাসিন্দাদের কষ্টের সীমা থাকে না। পঞ্চায়েতের তরফে প্রশাসনের কাছে সেতু তৈরির জন্য বারবার দাবি জানানো হয়েছিল। অবশেষে সেই দাবি পূরণ হচ্ছে। বিনপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশচন্দ্র সর্দার বলেন, খেড়িয়ারতা নদীর ওপর সেতু তৈরির জন্য ৪৪ লক্ষের ওপর টাকা বরাদ্দ হয়েছে। জেলা পরিষদ কাজ করবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ