সংবাদদাতা, ঘাটাল: বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার প্রচার সত্ত্বেও সচেতন হচ্ছেন না মানুষ। সুরক্ষার ব্যবস্থা ছাড়া নিজেদের মতো করে বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে ঘাটাল মহকুমায় প্রায়শই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। পুলিস জানিয়েছে, একবছরে এই মহকুমায় ন’জন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গিয়েছেন। এর মধ্যে আটজনই নিজেরা বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার ঘাটাল ডিভিশনের ম্যানেজার বিশ্বদেব বিশ্বাস বলেন, আমরা মানুষকে সতর্ক করতে নিয়মিত মাইকিং করছি। আমাদের নিয়ম মেনে চললে এধরনের ঘটনা ঘটত না। কিন্তু সাধারণ মানুষ আমাদের কথা না শুনে নিজেদের বিপদ ডেকে আনছেন। সচেতনতার অভাব ও অসতর্কতাই এরকম দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
এবছর ২৮জানুয়ারি দাসপুর থানার কুচামারি গ্রামে কার্তিক জানা নামে এক প্রৌঢ় ওয়্যারিং ছাড়াই লুজ তার দিয়ে বিদ্যুৎ-সংযোগের ব্যবস্থা করতে গিয়ে তড়িদাহত হয়ে মারা যান। ২৮মে কোলাঘাট থানার তেঘড়ি গ্রামের বাসিন্দা বছর বাইশের বুবাই সামন্ত দাসপুরের সাহাচকে লুজ তার দিয়ে মিনি পাম্প চালাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
৮জুলাই ঘাটাল থানার সোয়াই গ্রামে মিনি পাম্প চালাতে গিয়ে লুজ তারে তড়িদাহত হয়ে সমীর রায় নামে বছর একুশের এক যুবকের মৃত্যু হয়। তার পরদিন ৯ জুলাই দাসপুর থানার সীমানা গ্রামের বৃদ্ধ সত্য চৌধুরী(৬১) বাড়ির সামনের ট্রান্সফরমারের ফিউজ বদলাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
গতবছর ৩১অক্টোবর ঘাটাল থানার আমোদরকূলে কালীপুজোর জন্য বক্সের তার টাঙাতে গিয়ে হাইটেনশন লাইন থেকে তড়িদাহত হয়ে পীযূষ সানকি(১৫) নামে এক কিশোর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। ২০ অক্টোবর চন্দ্রকোণা থানার শ্যাওড়া গ্রামে বছর পঞ্চাশের বাচ্চু রায় বেআইনিভাবে মিনি পাম্প চালাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পুলিস জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার থেকে বৈধ সংযোগ না নিয়েই তিনি সেই কাজ করছিলেন। সেবছর ১৩ আগস্ট ওই থানার মথুরাপুরে অনিল দলুই নিজের লুজ তার দিয়ে মিনি পাম্প চালিয়ে নির্মীয়মাণ বাড়িতে জল দিতে গিয়ে তড়িদাহত হয়ে মারা যান। এসমস্ত ঘটনাই প্রচার করে, বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার প্রচার সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের অনেকেই তাতে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
তবে দাসপুর থানার সুজানগরে সুরেখা খাঁড়া(৪২) ও চন্দ্রকোণার আরাধ্য দলুইয়ের(৯) মৃত্যুতে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার অবহেলাকেই দায়ী করা হয়েছে। গতবছর ৫ নভেম্বর বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার ঠিকাকর্মীদের ভুলেই টানা তারের সঙ্গে মেইন লাইনের সংযোগ হয়ে গিয়েছিল। সেই তারে হাত লেগেই তড়িদাহত হয়ে সুরেখাদেবী মারা যান।
২৫জুলাই চন্দ্রকোণা শহরের ১১নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বাজারে তড়িদাহত হয়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী আরাধ্যা দলুইয়ের(৯) মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ, বাড়ির সামনে দিয়ে হাইটেনশন লাইন যাওয়ার কারণেই আরাধ্যার মৃত্যু হয়।