Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডিজিটাল অ্যারেস্টের মামলায় ৯ অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, দেশে প্রথম সাজা ঘোষণা কল্যাণী মহকুমা আদালতে

কল্যাণীর বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত কৃষি বিজ্ঞানিকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করে প্রায় এক কোটি টাকা প্রতারণার মামলায় শুক্রবার সাজা ঘোষণা করল কল্যাণী মহকুমা আদালত।

ডিজিটাল অ্যারেস্টের মামলায় ৯  অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, দেশে প্রথম সাজা ঘোষণা কল্যাণী মহকুমা আদালতে
  • ১৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, কল্যাণী: কল্যাণীর বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত কৃষি বিজ্ঞানিকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করে প্রায় এক কোটি টাকা প্রতারণার মামলায় শুক্রবার সাজা ঘোষণা করল কল্যাণী মহকুমা আদালত। ঘটনাকে নজিরবিহীন আখ্যা দিয়ে ধৃত এক মহিলা সহ ৯ জনকে যাবজ্জীবন সাজার কথা শোনালেন কল্যাণী আদালতের এডিজে শুভার্থী সরকার। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রাজ্যের বাসিন্দা দু’জন, বাকিরা ভিন রাজ্যের। 

Advertisement

কল্যাণীর বাসিন্দা পার্থকুমার মুখোপাধ্যায়। অবসরপ্রাপ্ত কৃষিবিজ্ঞানী। বয়স প্রায় ৭০ বছর। গত বছর নভেম্বর মাস নাগাদ তিনি সাইবার অপরাধীদের ফাঁদে পড়েছিলেন। তাদের হাতে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ হয়ে খুইয়েছিলেন ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। সেই ঘটনায় রানাঘাট পুলিস জেলার সাইবার ক্রাইম থানা তদন্তে নেমে মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, গুজরাত ও রাজস্থান থেকে এক মহিলা সহ গ্রেপ্তার করে ১৩ জনকে। বৃহস্পতিবার তাদের মধ্যে ৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এদিন তাদের যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করে কল্যাণী এডিজে আদালত। বাকি চারজন আগেই এই মামলা থেকে রেহাই পেয়েছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে এদের গ্রেপ্তার করেছিল রানাঘাট পুলিস। তাদের থেকে উদ্ধার হয়েছিল একাধিক মোবাইল, ব্যাঙ্কের পাসবই, চেকবই, প্যান কার্ড, সাড়ে তিন লক্ষ টাকা সহ বহু নথি।
পার্থবাবু বলেন, ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আমি অনেক টাকা তুলেছি দাবি করে মহারাষ্ট্র পুলিসের আধিকারিক পরিচয়ে হুমকি দেওয়া হয়। এরপর সেই টাকা শোধ করতে বলা হয়। না হলে বাড়িতে পুলিস পাঠানো হবে। শাস্তি হিসেবে সাত দিন ধরে আমাকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করে রেখে বলা হয়, প্রতি ঘণ্টায় ছবি তুলে পাঠাতে হবে। এরপর তাদের কথা মতো ফিক্সড ডিপোজিট, পিএফ, মিউচুয়াল ফান্ড ভেঙে ধাপে ধাপে টাকা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে রিসিভ কপিও আমাকে পাঠানো হয়। হঠাৎ একদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় তারা। তারপর আমি বুঝতে পারি, প্রতারণার শিকার হয়েছি আমি। অপরাধীদের সাজা হওয়ায় আমি খুশি। 
রানাঘাট পুলিস জেলার সুপার আশিস মৌর্য বলেন, আমরা আদালতের কাছে যাবজ্জীবন চেয়েছিলাম। সেই রায়ই বিচারক দিয়েছেন। এই রায় নজিরবিহীন। দুষ্কৃতীরা অপরাধ করার আগে ভাববে। অন্যদিকে, সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, সারা দেশের মধ্যে সাইবার ক্রাইমের রেকর্ডে এই সাজা উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে।

সম্পর্কিত সংবাদ