


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: নোয়াখালির ভয়াবহ দাঙ্গায় মর্মাহত মহাত্মা গান্ধী। দিল্লি থেকে ছুটে এসে সব শুভানুধ্যায়ীর পরামর্শ বাতিল করে উঠলেন ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ সোদপুর খাদি প্রতিষ্ঠানে। ১৯৪৬ সালের ৬ নভেম্বর সকালে সোদপুর খাদি প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রেনে রওনা দিলেন নোয়াখালি। সেই ঐতিহাসিক যাত্রার ৮০ বছর। এই ঐতিহাসিক দিনটি স্মরণ করতে বৃহস্পতিবার পদযাত্রা ও একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে সোদপুরে। সোদপুর খাদি প্রতিষ্ঠান পূর্ব রেলকে চিঠি দিয়েছে। স্থানীয়দেরও দাবি, মহাত্মার ঐতিহাসিক সফরকে সম্মান জানাতে উদ্যোগ নিক রেলমন্ত্রক। সোদপুর স্টেশনকে হেরিটেজ ঘোষণার দাবিও জানানো হয়েছে।
বাংলাজুড়ে দাঙ্গা চলছে। ১৯৪৬ সালের ২৯ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধী দিল্লি মেলে কলকাতা পৌঁছলেন। এরপর সরাসরি সোদপুরের খাদি আশ্রমে পা রাখলেন। ৬ নভেম্বর নোয়াখালি যাওয়ার কথা। তার আগে কয়েকটা দিন এই আশ্রমই হয়ে উঠেছিল ভারতের রাজনীতির ভরকেন্দ্র। প্রতিদিন দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী ও বিদগ্ধ মানুষের ভিড় লেগেই থাকত। সেই তালিকায় জহরলাল নেহেরু, বল্লভভাই প্যাটেল, মৌলানা আজাদ, সুরাবর্দি, সুশীলা নায়ার, প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ, শরৎচন্দ্র বসু সহ বহু বিশিষ্ট। শুধু আশ্রমে বসে বেঠক নয়, গান্ধী গাড়িতে কলকাতায় গিয়ে বাংলার গভর্নরের সঙ্গেও দেখা করেন। কলকাতা থেকে ফেরার পথে তাঁর গাড়ি আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ৬ নভেম্বর ভোর চারটের সময় তিনি খাদি প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনাসভায় যোগ দেন। জিডি বিড়লা, রামমোহন লোহিয়া সহ বিশিষ্টদের সঙ্গে দেখা করেন। সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ সোদপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ধরেন। তাঁরই ইচ্ছা অনুসারে, তৃতীয় শ্রেণির কোচের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এছাড়া বাকি কর্মকর্তা ও ২৫ সংবাদপত্রের কর্মীর জন্য উচ্চশ্রেণির কোচের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল। এছাড়া একটি লাগেজ ভ্যান ও একটি ব্রেক ভ্যান যুক্ত ছিল। ট্রেন সোদপুর, নৈহাটি, রানাঘাট, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙা হয়ে গোয়ালন্দ স্টেশন পৌঁছয়। গোয়ালন্দ থেকে রাতে চাঁদপুরের জন্য ছিল স্টিমারের ব্যবস্থা। নোয়াখালি পৌঁছনোর পর গান্ধীজি বলেছিলেন, ‘আমি চারদিকে অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি। তবে অবশ্যই এটি একদিন কেটে যাবে।’ ১৯৪৭ সালের চার মার্চ রাতে তিনি নোয়াখালি থেকে ট্রেনে সোদপুরে ফেরেন।
ইতিহাসবিদ এবং সোদপুর খাদি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত শেখর শেঠ বলেন, ‘গান্ধীজি তিন মাস একটানা নোয়াখালি এলাকার ৮০টি গ্রাম হেঁটে পরিদর্শন করেন। সেই ঐতিহাসিক যাত্রা সোদপুর স্টেশন থেকে শুরু হয়েছিল।’ তিনি জানান, এছাড়াও সাতবার গান্ধীজি সোদপুর স্টেশন থেকে ট্রেনপথে যাতায়াত করেছেন। অথচ সোদপুর স্টেশনে তাঁর কোনও স্মৃতিফলক নেই। কোনও গ্যালারিও হয়নি। মানুষ চায় সোদপুর স্টেশনকে হেরিটেজ ঘোষণা করা হোক। তাঁর নোয়াখালি যাত্রার ৮০ বছর স্মরণে নানা ধরণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। রেলকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।