নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: নজরদারির ত্রুটি ছিল না। প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রেই ছিল মেটাল ডিটেক্টর। সন্দেহজনক কিছু থাকলেই ‘বিপ বিপ’ শব্দে জ্বলে উঠেছে লাল আলো! কিন্তু, তা সত্ত্বেও কেউ জুতোর তলায়, কেউ টুপির ভিতর লুকিয়ে মোবাইল নিয়ে ঢুকে পড়েছিল। তবে, ইচ্ছে পূরণ হয়নি। হাতেনাতে ধরা পড়েছে আটজন। এর মধ্যে ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা সমান সমান। চারজন ছাত্র এবং চারজন ছাত্রী। এই আটজনেরই পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে। তার মধ্যে কলকাতার একটি নামী স্কুলের ছাত্রীও রয়েছেন। তিনি জুতোর তলায় মোবাইল নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকেছিলেন।
এছাড়াও, কামারহাটি, পশ্চিম মেদিনীপুর, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া ও কোচবিহারের সাতজন রয়েছেন। জলপাইগুড়িতে যিনি মোবাইল নিয়ে ধরা পড়েছেন, তিনি বাথরুম দিয়ে আনানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। মোবাইলে তাঁরা এআই বা গুগলের সাহায্য নিচ্ছিলেন, নাকি অন্য কোনও কারণ ছিল, তার তদন্ত শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার শেষ হওয়ার পর সল্টলেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে সচিব প্রিয়দর্শিনী মল্লিকও উপস্থিত ছিলেন। চিরঞ্জীববাবু বলেন, ‘এবার ২০৮৯টি পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রতিটি জায়গায় মেটাল ডিটেক্টর ছিল। মোবাইল সংক্রান্ত অপরাধের প্রবণতা কমেছে। গতবার ৪১টি ধরা পড়েছিল। এবার সেখানে ৮টি’।
প্রসঙ্গত, এবার ৫ লক্ষ ৯ হাজার পরীক্ষার্থী ছিল। পরীক্ষা চলাকালীন ৩ জন পরীক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ ও জখম হয়ে ৭৬ জন হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা দিয়েছেন। সভাপতি বলেন, এবার পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই মিটেছে। মাত্র তিনটি জায়গায় বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছিল। একটি স্কুলে পরীক্ষার্থীরা ভাঙচুর করেছেন। তাঁরা যে স্কুলের পড়ুয়া, সেই স্কুল ওই ক্ষতিপূরণ দেবে। পরীক্ষার্থীদের অনস্পট উপস্থিতি জানতে আগামী বছর থেকে গুগলশিটের ব্যবস্থা করা হবে। ফল প্রকাশিত হবে মে মাসের মাঝামাঝি সময়। প্রসঙ্গত, এদিন নৈহাটি নরেন্দ্র বিদ্যানিকেতন উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে পরিদর্শনে যান সভাপতি ও সচিব। সেখানে সভাপতি বলেন, এবার ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। এটি কন্যাশ্রীরই সুফল।