নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য তালিকায় থেকে ১১৩টি বাতিল হওয়া অনগ্রসর শ্রেণির মধ্যে ৭৬টি সম্প্রদায়ের নতুন করে অন্তর্ভুক্তিকরণের ছাড়পত্র দিল সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভা। অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের করা সমীক্ষার ভিত্তিতে দেওয়া সুপারিশের উপর ভিত্তি করেই এই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, ওইসঙ্গে ২০১০ সালের আগে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ৬৪টি শ্রেণির উপশ্রেণিকরণের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্থ চাকরি ও পদে অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণের শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাবেও ছাড়পত্র দিল মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভা।
২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ১১৩টি অনগ্রসর সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি বিভিন্ন কারণে বাতিল করে দেয়। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে স্পেশ্যাল রিট পিটিশন করে রাজ্য সরকার। পরবর্তীকালে আগস্ট মাসে পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনও সুপ্রিম কোর্টে এসএলপি করে। মার্চ মাসে রাজ্য এবং কমিশনে তরফে সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয় যে, কাদের সংরক্ষণ পাওয়া উচিত তা নির্ধারণ করার জন্য (বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নতুন আবেদন পাওয়ার পর) কমিশন একটি এক্সারসাইজ করবে। সেটি আগামী তিনমাসের মধ্যেই শেষ হবে। সেটি সম্পূর্ণ করে ফের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হওয়ার কথা জুলাই মাসে। রাজ্যের তরফে কপিল সিবাল সুপ্রিম কোর্টে এই কথা তুলে ধরেছিলেন। সেই অনুযায়ী ৮ মার্চ থেকে নতুন করে সমীক্ষা এবং হিয়ারিং শুরু করে কমিশন। যেহেতু এই কারণে উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি, চাকরির পরীক্ষা থেকে শুরু করে নানাবিধ সুবিধা প্রদানের কাজ আটকে রয়েছে, সেই কারণে এখনও পর্যন্ত ১১৩টির মধ্যে সমীক্ষা সম্পূর্ণ হওয়া ৭৬টির সমীক্ষা সম্পূর্ণ করে রাজ্যকে এদের তালিকাভুক্তির সুপারিশ করে কমিশন।
জেলা প্রশাসন এবং কলকাতা পুরসভার তত্ত্বাবধানে হওয়া এই সমীক্ষায় করেছে কালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ব্যুরো অব আপ্ল্যায়েড ইকনমিক অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিক্স। এই ক্ষেত্রে মণ্ডল কমিশনের সুপারিশের নির্ধারিত সূচক ধরে এই সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষার রিপোর্টকে সামনে রেখে প্রথম পর্যায়ে ৭৬টির পাবলিক হিয়ারিং করে কমিশন। বাকিগুলির হিয়ারিং চলছে। সেইসঙ্গে সমস্ত অনগ্রসর শ্রেণির বাতিল হয়ে যাওয়া দুটি বিভাগের (ক্যাটিগরি এ এবং বি) মর্যাদা কমিশনের সঙ্গে রাজ্য সরকারে আলোচনার ভিত্তিতে পুনরায় বহাল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। এটি কার্যকর হবে ১৯৯৯ থেকে ২০১০ পর্যন্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৬৬টির মধ্যে ৬৪টি অনগ্রসর শ্রেণির জন্যও। এর জেরে আগের মতোই ক্যাটিগরি এ’র জন্য ১০ শতাংশ এবং ক্যাটিগরি বি’র জন্য ৭ শতাংশ সংরক্ষণের পথে হাঁটল রাজ্য। বাকি দুটির সমীক্ষা বর্তমানে চলবে।
রাজ্য এবং কমিশনের এই সমীক্ষার তথ্যসহ পরবর্তী পদক্ষেপের কথাই জুলাই মাসে তুলে ধরা হবে সুপ্রিম কোর্টের কাছে।