নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: সদ্য শেষ হয়েছে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ। রাজ্যজুড়ে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, পথচারী ও চালকদের সচেতন করা হয়েছে। এবং পথ দুর্ঘটনা সংক্রান্ত নানা তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বহু তথ্য। তাতে দেখা যাচ্ছে, কোথাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে পথ দুর্ঘটনা। আবার দুর্ঘটনা বৃদ্ধির পরিসংখ্যানও পাওয়া গিয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত ছ’মাসে বারাকপুর পুলিস কমিশনারেট এলাকায় পথ দুর্ঘটনায় ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছেন ১৬০ জনের বেশি। রীতিমতো মরণ ফাঁদ হয়ে গিয়েছে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে। দুর্ঘটনা ঘটছে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে, যশোর রোড, বিটি রোড ও ঘোষপাড়ায়। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। এতো দুর্ঘটনার কারণ কী? তা হাতরাতে হচ্ছে পুলিসকেও। তাই কীভাবে দুর্ঘটনা কমানো যায় তা নিয়ে এবার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে প্রশাসনের অন্দরে। পথ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে কলকাতা পুলিসের মতো বিশেষজ্ঞ সংস্থা নিয়োগ করছে বারাকপুর পুলিস কমিশনারেট। যারা কলকাতা শহরে সমীক্ষা চালায়, তারা প্রতিনিয়ত সমীক্ষা চালিয়ে দেখবে, এত বেশি দুর্ঘটনা কেন ঘটছে, দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
পথ নিরাপত্তা সপ্তাহে ব্যবসায়ী, অটোচালক, স্কুল পড়ুয়াদের নিয়ে বারাকপুর শহরের বিভিন্ন রাস্তায় গত সাতদিন পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ চলাকালীন সমীক্ষা চালানো হয়। সেই সমস্ত সমীক্ষকদের কর্মসূচির সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বিশেষ সার্টিফিকেট তুলে দিয়েছেন পুলিস কমিশনার মুরলিধর শর্মা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুল কলেজের পড়ুয়া এবং সমাজের বিশিষ্ট মানুষেরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন মহকুমা শাসক সৌরভ বারিক সহ বারাকপুর পুলিস কমিশনারেটের কর্তা ব্যক্তিরা।
দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে আলোচনায় উঠে আসছে পানশালার প্রসঙ্গ। একাধিক পানশালা রয়েছে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের পাশে। সেইসব বার থেকে বেরিয়ে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে অনেককেই দুর্ঘটনায় পড়তে হয়েছে। মদ্যপানের কারণেই এই দুর্ঘটনা বলে মনে করছে পুলিস। এব্যাপারে পুলিস কমিশনার মুরলিধর শর্মা জানিয়েছেন, প্রতিটি পানশালার উপরে রাতে নজরদারি চালানো হবে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য, দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা। সে কারণে কলকাতা পুলিসে যেমন নিয়মিত সমীক্ষা চালানো হয়, তেমনি আমরাও ওই ধরনের একটি সংস্থাকে নিয়োগ করছি। তারা সমীক্ষা চালিয়ে দেখবেন দুর্ঘটনা কেন হচ্ছে। একাধিক বৈঠক হয়েছে ওই সংস্থার সঙ্গে।
এছাড়া, দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনটি ‘ই’ কে গুরুত্ব দেন কমিশনার। তিনি বলেন, তিনটি ‘ই’ মানে হল, এডুকেশন, এনফোর্সমেন্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং। এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে পথ দুর্ঘটনাকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পথ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে সাধারণ মানুষকে রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে হবে।