নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘সম্পূর্ণ নির্দোষ’। এই আখ্যা দিয়েই সব অভিযোগ থেকে মুক্ত করা হল মালেগাঁও বিস্ফোরণের প্রধান অভিযুক্তদের। ১৭ বছর আগে মহারাষ্ট্রের মালেগাঁওয়ে ২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ভিখু চকের ওই বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ছ’জন। জখম হন শতাধিক। প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চার্জ গঠন করা হয়েছিল সাধ্বী প্রজ্ঞা ঠাকুর, কর্নেল শ্রীকান্ত পুরোহিত, রমেশ উপাধ্যায়, অজয় রাহিকর, সুধাকর দ্বিবেদী, সুধাকর চতুর্বেদী ও সমীর কুলকার্নির বিরুদ্ধে। চার্জশিটও দেওয়া হয়।
২০০৮ সালে তদন্তে নামল মহারাষ্ট্র পুলিসের সন্ত্রাসদমন শাখা (এটিএস)। তদন্ত সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরণে যে মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করা হয়, সেটি প্রজ্ঞা ঠাকুরের নামে রেজিস্টার করা। এই মোটরসাইকেলটি তিনিই চক্রান্তকারীদের দিয়েছিলেন। এই চক্রান্তকারীরা প্রত্যেকেই ‘অভিনব ভারত’ নামে একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন গোষ্ঠীর সদস্য। এই তদন্ত চলাকালীন সেই সময়ই প্রথম প্রচারে আসে ‘গেরুয়া সন্ত্রাস’ নামক শব্দবন্ধটি। ২০১১ সালে এই ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। কিন্তু বৃহস্পতিবার এনআইএ বিশেষ আদালতের বিচারক এ কে লহাটি জানিয়ে দেন, মামলায় প্রধান অভিযুক্তদের জড়িত থাকার কোনও প্রমাণই দিতে পারেনি তদন্তকারীরা। অতএব অভিযুক্ত সাতজনই প্রমাণাভাবে নির্দোষ হওয়ার যোগ্য। সেই কারণেই সাতজন অভিযুক্তকেই নির্দোষ ঘোষণা করা হচ্ছে।
আদালত আরও জানায়, সন্ত্রাসের কোনও ধর্ম হয় না। কিন্তু নিছক আন্দাজ ও ধারণার বশবর্তী হয়ে তো কোনও বিচার চলে না। প্রমাণ কোথায়? বলা হয়েছে, হামলায় যে আরডিএক্স ব্যবহার করা হয়েছিল, সেই আরডিএক্স নাকি মজুত করা হয়েছিল কর্নেল পুরোহিতের বাড়িতে। পরে অবশ্য সেই প্রমাণও মেলেনি। বিস্ফোরক বহনকারী হিসেবে যে মোটরসাইকেলের কথা বলা হয়েছে, সেটি প্রজ্ঞা ঠাকুরের নামে রেজিস্টার, তারও প্রমাণ নেই। সাধ্বী প্রজ্ঞা এখন বিজেপি নেত্রী। তিনি ভোপাল থেকে নির্বাাচিত হয়ে এমপিও হয়েছিলেন। এদিন তিনি বলেছেন, এই মামলা আমার জীবনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। যারা আমার জীবনকে এভাবে ধ্বংস করেছে, তাদের ঈশ্বর সাজা দেবেন।
এদিকে, মালেগাঁও মামলায় আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি। পদ্মশিবিরের সদর দপ্তরে দলের মুখপাত্র রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, হিন্দু সন্ত্রাসবাদী বলে কিছু হয় না। কংগ্রেস তাদের আমলের পুলিসকে দিয়ে গেরুয়া সন্ত্রাসের নামে একটি বিশেষ তকমা দেওয়া শুরু করে। সেটা যে চক্রান্ত ও ভিত্তিহীন ছিল, আজকের রায়ে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। একই কথা বলেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও। তিনি বলেন, হিন্দু কখনও সন্ত্রাসবাদী হয় না!
সূত্রের খবর, এনআইএ আদালতের এই রায়ে প্রচারের জন্য নতুন অস্ত্র এসেছে হাতে। যা নিয়ে রীতিমতো উৎফুল্ল বিজেপি শিবির।