নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে উত্তর দমদম পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের দেবীনগর এলাকা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। শুধু রাস্তা নয়, অনেকের ঘরের ভিতরেও জল জমে রয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও তার বেশি। শনিবার সকালে এমনই এক জলমগ্ন বাড়িতে ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। ছ’মাসের কন্যাকে খাটের উপর বিছানায় ঘুম পাড়িয়ে কিছু সময়ের জন্য ঘরের বাইরে বেড়িয়েছিলেন তার মা। ফিরে এসে দেখেন, ঘরের জমা জলে পড়ে রয়েছে তার মেয়ে। নিথর। তড়িঘড়ি তাকে নিয়ে মা ছোটেন স্থানীয় পুর-হাসপাতালে। সেখান থেকে কলকাতায় এক শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তখন আর কিছুই করার ছিল না! চিকিৎসক জানিয়ে দেন, চিরবিদায় নিয়েছে একরত্তি!
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যাকে নিয়ে ওই ঘরে থাকেন নিমতার ট্রাফিকে কর্মরত সিভিক ভলান্টিয়ার পাপন ঘোড়ুই। অন্য কোনও উপায় না থাকায় জলমগ্ন ঘরেই তাঁদের কোনওরকমে কাটাতে হচ্ছিল। এদিন সকাল ৯টার দিকে বাড়িতে ছিলেন পাপনের স্ত্রী ও শিশুকন্যা। পাপন ছিলেন ডিউটিতে। মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে মা গিয়েছিলেন পাশের বাড়িতে। তখনই ঘটে যায় এই ঘটনা। সাড়ে ৯টা নাগাদ পাপনের স্ত্রী ফিরে এসে দেখেন, ঘরের জমা জলে পড়ে রয়েছে তাঁর মেয়ে। তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় পুরসভার হাসপাতালে। সেখান থেকে কলকাতায় শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত বলে জানিয়ে দেন চিকিৎসক।
এদিন ঘটনাস্থলে যান উত্তর দমদম পুরসভার স্থানীয় কাউন্সিলার প্রশান্ত দাস। তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে যা বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে সব জায়গায় জল জমে গিয়েছে। এসে দেখলাম, ঘরের মধ্যে জল আছে। জলের উপর ইট রেখে খাট পাতা।’ কিন্তু নিকাশির এমন বেহাল দশা কেন? সাফাই দেওয়ার ঢঙে কাউন্সিলার বলেন, ‘নিকাশির ব্যবস্থা হাজার ভাল হলেও প্রকৃতিকে ঠেকানোর ক্ষমতা কারও নেই। জল নামার জন্য সময় তো দিতে হবে। তার মধ্যেই বৃষ্টি শুরু হয়ে যাচ্ছে।’
ঘটনা জানাজানি হতেই দেবীনগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সেই সঙ্গে বেহাল নিকাশি নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুরসভা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর দমদম পুরসভা এলাকার ২, ৩, ৪, ১১, ১২, ১৩, ২৬, ২৭, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে অল্প বৃষ্টিতেই জল জমে যাচ্ছে। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে অনেক উঁচু হয়ে যাওয়াটাও এসব এলাকায় জল জমার অন্যতম কারণ। বর্তমানে জমা জল নামাতে পুরসভার তরফে ২৬টি পাম্প চালানো হয়েছে বলে খবর। নিজস্ব চিত্র