Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পড়ুয়ার অভাবে বন্ধ ৫০টি স্কুল, ৩০জন শিক্ষক-শিক্ষিকা বাড়িতে বসে মাইনে পাচ্ছেন, ভৎর্সনার মুখে পূর্ব মেদিনীপুরের ডিআই

পড়ুয়ার অভাবে বন্ধ স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বাড়িতে বসে মাইনে পাওয়ার ঘটনায় ভৎর্সনার মুখে পড়লেন পূর্ব মেদিনীপুরের ডিআই(মাধ্যমিক) পলাশ রায়।

পড়ুয়ার অভাবে বন্ধ ৫০টি স্কুল,  ৩০জন শিক্ষক-শিক্ষিকা বাড়িতে বসে মাইনে পাচ্ছেন, ভৎর্সনার মুখে পূর্ব মেদিনীপুরের ডিআই
  • ১৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়িয়া, তমলুক: পড়ুয়ার অভাবে বন্ধ স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বাড়িতে বসে মাইনে পাওয়ার ঘটনায় ভৎর্সনার মুখে পড়লেন পূর্ব মেদিনীপুরের ডিআই(মাধ্যমিক) পলাশ রায়। এসংক্রান্ত খবর ৮আগস্ট ‘বর্তমান পত্রিকা’য় প্রকাশিত হয়। সেই খবরের জেরে বিকাশ ভবন থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়। কেন বন্ধ স্কুলের সংখ্যা এবং তাতে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা সময়মতো রাজ্য শিক্ষা দপ্তরে পাঠানো হয়নি তানিয়ে রীতিমতো ভৎর্সনার মুখে পড়েন ডিআই। অবিলম্বে রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তারভিত্তিতে তড়িঘড়ি ৪৫টি সার্কেল থেকে বন্ধ হওয়া স্কুলের তালিকা এবং তাতে যুক্ত থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকার তালিকা সংগ্রহ করে বিকাশ ভবনে পাঠানো হয়।

Advertisement

করোনার সময় থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের ধারাবাহিকভাবে জুনিয়র হাইস্কুলের পড়ুয়ার সংখ্যা কমতে শুরু হবে। গত পাঁচ বছরে প্রায় ৫০টি স্কুল পড়ুয়াশূন্য হয়ে গিয়েছে। যদিও সার্কেলভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তথ্য ডিআই অফিসে ছিল না। সেই রিপোর্ট সময়মতো রাজ্যেও পাঠানো হয়নি। বন্ধ হওয়া ওইসব স্কুলের মধ্যে প্রায় ৩৫টি থেকে এসএসসির মাধ্যমে নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। কেউ কেউ বদলি হয়েছেন। কিন্তু, ১৫টি স্কুলের প্রায় ৩০জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এখনও বদলি হননি। স্কুল বন্ধ থাকায় তাঁরা সেখানেও যান না। বাড়িতে বসে বসে মাস মাইনে পাচ্ছেন।

শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের শিউড়ি জুনিয়র হাইস্কুলে স্কুল টাইমেও তালা ঝোলে। কারণ, ২০২২সাল থেকে ওই স্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই। কিন্তু, দু’জন শিক্ষক আছেন। পড়ুয়া না থাকায় তাঁরাও স্কুলের পথ ভুলে গিয়েছেন। এখানকার টিচার ইন-চার্জ উত্তম বিশ্বাস বলেন, তিন বছর স্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই। এখানে তিনজন শিক্ষক ছিলেন। একজন বদলি হয়ে চলে গিয়েছেন। এখন আমরা দু’জন আছি। আমরা অন্য জায়গায় বদলির জন্য আবেদন করেছি। বিকাশ ভবনেও দৌড়ঝাঁপ করেছি। কিন্তু, বদলি না হওয়ায় শিক্ষাদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।

একইভাবে ময়না ব্লকের ব্রজবল্লভপুর জুনিয়র হাইস্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই। অথচ, দু’জন স্থায়ী শিক্ষক আছেন। অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক তাঁদের অন্য একটি স্কুলে পড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু, এনিয়ে কোনও লিখিত অর্ডার হয়নি। ওই স্কুলের শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডল বলেন, ২০২১সাল থেকে আমাদের স্কুল ছাত্রশূন্য হয়ে গিয়েছে। আমরা এই মুহূর্তে দু’জন শিক্ষক রয়েছি।

শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে পশড়া পিতুলসাহা জুনিয়র হাইস্কুলে খাতায় কলমে তিনজন পড়ুয়া থাকলেও তারা কেউ স্কুলে আসে না। তিনজনের মধ্যে একজন ড্রপ আউট। বাকি দু’জন শারীরিক প্রতিবন্ধী। অথচ, দু’জন শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন। এইভাবে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় রামনগর, এগরা এবং নন্দকুমার সহ পূর্ব মেদিনীপুর প্রায় ১৫টি স্কুল ছাত্রশূন্য‌ সত্ত্বেও ৩০জন শিক্ষক-শিক্ষিকারা আছেন।

পড়ুয়া নেই। অথচ, শিক্ষক-শিক্ষিকারা বসে বসে মাইনে নিচ্ছেন। এরফলে সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে। তাঁদের অন্য স্কুলে বদলি করা হচ্ছে না। গোটা বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হতেই শিক্ষা দপ্তরের পদস্থ অফিসারদের কোপের মুখে পড়েন পূর্ব মেদিনীপুরের ডিআই। পলাশবাবু বলেন, আমাদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য ছিল না। বিকাশ ভবন থেকে এনিয়ে জরুরিভিত্তিতে রিপোর্ট চাওয়া হয়। সেইমতো সবকটি সার্কেল থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করে পাঠিয়েছি। গোটা বিষয়টি নিয়ে দপ্তর বেশ অসন্তুষ্ট।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ