নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম সেমেস্টার (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি মিলিয়ে তৃতীয়) হবে ওএমআর শিটে। প্রশ্নও থাকবে এমসিকিউ ভিত্তিক। তাতে পরীক্ষার ‘হল কালেকশন’-এর মাধ্যমে টোকাটুকির প্রবল সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রশ্নপত্রের পাঁচটি সেট তৈরি করে সেই সম্ভাবনা সমূলে বিনাশ করতে চাইছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। বুধবার কলকাতা জেলার পরীক্ষা সংক্রান্ত অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠকে সেই অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্নপত্র বিলি করতে বলা হয়েছে। এস প্যাটার্ন, অর্থাৎ একই সেটের প্রশ্ন যেন কোনাকুনি বসে থাকা পরীক্ষার্থী পায়, সেটাও দেখতে বলা হয়েছে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের। এই ক্রমপর্যায় ঠিক রাখার জন্য অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর বেঞ্চেও একটি প্রশ্নপত্র রাখার কথা বলা হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে পরিদর্শক হিসেবে কোনও চুক্তিভিত্তিক বা অস্থায়ী শিক্ষককে রাখা যাবে না। প্রয়োজনে উচ্চ প্রাথমিক, এমনকী, প্রাথমিক শিক্ষকদেরও আনা যেতে পারে। পাশের স্কুলের শিক্ষকদেরও পরিদর্শকের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এবছর উচ্চ মাধ্যমিকে একটি বিশেষ অনলাইন ব্যবস্থায় রিয়েল টাইম অ্যাটেন্ডেন্স গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ, কোনদিন কে উপস্থিত থাকছেন বা থাকছেন না, সেটা সঙ্গে সঙ্গেই জেনে যেতে পারবে সংসদ। প্রথম দিন অ্যাডমিট কার্ড না আনলেও কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা আলোচনা করে ছাড় দিতে পারবেন পরীক্ষার্থীকে। সেক্ষেত্রে পরদিন অ্যাডমিট কার্ড আনতেই হবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে। না-হলে তার পরীক্ষা বাতিল হবে। সংসদের এক আধিকারিক বলেন, পাঁচটি সেটে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে পরীক্ষায় স্বচ্ছতা রাখার জন্যই। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাতেও এই ব্যবস্থা থাকে। তবে, প্রতিযোগিতা কমানোর জন্য চাকরির পরীক্ষায় সাধারণত কেউ কাউকে সাহায্য করেন না। তবে, এক্ষেত্রে সবাই সহপাঠী হওয়ায় সেই প্রবণতা অনেকটাই বেশি থাকে। তাই এই ব্যবস্থা। যদিও, মাত্র দেড় ঘণ্টার পরীক্ষা হওয়া সত্ত্বেও কেন সকাল ১০টায় তা শুরু করা হবে, সেই প্রশ্ন তুলছে শিক্ষক সংগঠনগুলি। তাদের বক্তব্য, গোটা প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে সকাল ৭টা থেকে। দূরের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে তা সমস্যার। এত আগে স্কুল শুরু হয় না। তাই পরীক্ষা শুরুর সময় পিছনোর দাবি উঠেছে।



