অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: পরপর পাঁচটি স্তর। প্রতিটি স্তরের কাঠামো আবার পৃথক। কখনও গোলাকৃতি, কখনও ত্রিকোণ! ক্রমশ ছোট হয়েছে সেই কাঠামো। সেই স্তরের পাশে নানা আকৃতির পোড়ামাটির ধুনুচি! বীরভূমের ভাদীশ্বর গ্রামে খনন করে মাটির তলায় প্রায় এক হাজার বছরের প্রাচীন মন্দিরের কাঠামো পেল আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (এএসআই) কলকাতা সার্কেল। বাংলার ইতিহাসের মুকুটে এ এক নয়া পালক। খনন কার্য শেষ হওয়ার পর সম্পূর্ণ রিপোর্ট তৈরি করেছে এএসআই। সেই রিপোর্ট জমা করা হয়েছে দিল্লির ডিরেক্টরের কাছে। সেখান থেকেই ওই রিপোর্ট প্রকাশিত হবে।
এএসআই সূত্রে জানা গিয়েছে, বীরভূমের মুরারইয়ের ভাদীশ্বর গ্রামে একটি উঁচু ঢিবি ছিল। প্রায় একবছর আগে এএসআইয়ের পক্ষ থেকে সেখানে খনন কার্য শুরু করা হয়। মাটির তলায় কী রয়েছে, তার ইতিহাস জানতেই সেই খনন চলে। সম্প্রতি, ওই খনন কার্য শেষ হওয়ার পরই সকলকে চমকে দিয়েছে এই প্রাচীন মন্দিরের গঠনও। মন্দিরটির সবচেয়ে নীচের স্তরের কাঠামোটি ছিল গোলাকৃতি। তার উপর দ্বিতীয় স্তরের কাঠামো পাওয়া গিয়েছে ত্রিকোণ আকৃতির। তৃতীয় স্তরের কাঠামোটি ওই ত্রিকোণকে রেখে তার বাইরে ফের গোলাকৃতি কাঠামো করা হয়েছিল। চতুর্থ স্তরের কাঠামোটি আবার ত্রিকোণ! সবশেষে আকারে ছোট হয়ে গোলাকৃতি হয়েই উপরের দিকে উঠেছে।
এই মন্দিরের পাশে বহু পোড়ামাটির ভাঙা জিনিসপত্র পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হল, পোড়ামাটির ধুনুচি। উপরের অংশ কিছুটা ভেঙে গিয়েছে। তবে, ওই ধরনের দেখতে ধুনুচি এখন পাওয়া যায় না। ধরাবার হ্যান্ডেলটি সোজা। যাতে ভালো করে বসানো যায়, তার জন্য নীচের অংশে গোলাকৃতি রিং জোড়া হয়েছে। তবে, একধরনের ধুনুচি নয়, নানা আকারের এবং অনেক রকমের ধুনুচি মিলেছে। এছাড়া নানা ধরনের পোড়ামাটির বাটি, গামলা, পোড়ামাটির পুঁথিসহ একাধিক জিনিসপত্র উদ্ধার হয়েছে।
এই খননকার্য প্রসঙ্গে আর্কিয়োলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডঃ রাজেন্দ্র যাদব (কলকাতা) বলেন, খনন সমাপ্ত। প্রাচীন মন্দিরের পাঁচটি স্তরের কাঠামো আমরা পেয়েছি। অনুসন্ধান করে দেখা গিয়েছে, এই মন্দির পাল যুগের শেষ সময় এবং সেন যুগের শুরুর দিকে তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ, প্রায় একহাজার বছরের প্রাচীন।