


সংবাদদাতা, কল্যাণী: গরিব মানুষের বিভিন্ন নথি অথবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে চলছিল প্রতারণা। বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অ্যাকাউন্ট খুলে ভাড়া দেওয়া হচ্ছিল সাইবার প্রতারকদের। অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে মোটা টাকার টোপ দিয়ে তা ভাড়া খাটানো হচ্ছিল। অনেক ক্ষেত্রে নথি হাতিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে লোন নিয়ে প্রতারণা করা হতো। এমনই একটি চক্রের পর্দা ফাঁস করল কল্যাণী পুলিস। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে দু’জনকে। পুলিস জেনেছে, প্রায় ৪৯ কোটি টাকার প্রতারণা হয়েছে।
সোমবার কল্যাণী থানার গয়েশপুরের বসন্তপুর এলাকা থেকে এই দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃতদের নাম শুভম রায় ও গণেশ পাল। তাদের বাড়ি হুগলির শ্রীরামপুর ও পূর্ব বর্ধমানের নাদনঘাট এলাকায়। ধৃতদের এদিন কল্যাণী মহকুমা আদালতে তোলার পর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া আরও চার-পাঁচ জন এই চক্রে জড়িত বলে মনে করছে পুলিস। চক্রের জাল অন্য রাজ্যেও রয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে বসন্তপুর এলাকায় ওই দু’জন যুবক ব্যাঙ্কের বই করিয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ গরিব মানুষদের থেকে নথি সংগ্রহ করছিল। সেই সময় পুলিস খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের আটক করে নিয়ে যায় গয়েশপুর ফাঁড়িতে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গিয়েছে, প্রতারিতরা বেছে বেছে গরিব মানুষকে, বিশেষ করে যাঁরা ব্যাঙ্কের বিষয় সম্পর্কে খুব একটা অবগত নন, তেমন মানুষকে টার্গেট করত। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ভুল বুঝিয়ে সাধারণ মানুষের নথি ব্যবহার করে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট খোলা হতো। এরপর লোন করে টাকা আত্মসাৎ করা হতো। পাশাপাশি সেই অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেওয়া বা বিক্রি করে দেওয়া হতো সাইবার চক্রের কাছে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, কর্ণাটকের এক ব্যক্তির টাকা বাংলায় একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল। সেই লেনদেনের খোঁজ নিতে গিয়ে প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে।
পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, মানুষকে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট খুলে লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হতো। তারপর লোন করিয়ে দেওয়ার পর সেই টাকা তুলে নেওয়া হতো। প্রকৃত গ্রাহকরা অনেক দেরিতে বুঝতেন তাঁদের নামে লোন নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেওয়া হতো। চক্রের অন্যদের ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিস। নিজস্ব চিত্র