Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৪০০ বছরের পুজোয় বিসর্জনের সময় দই ছুঁয়ে বসে থাকার রীতি

অশান্তির কারণে থালায় ভাতের বদলে ছাই দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিমানে বাংলাদেশ থেকে ৪০০ বছর আগে দত্তপুকুরে চলে এসেছিলেন জটাধারী দত্ত।

৪০০ বছরের পুজোয় বিসর্জনের সময় দই ছুঁয়ে বসে থাকার রীতি
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অশান্তির কারণে থালায় ভাতের বদলে ছাই দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিমানে বাংলাদেশ থেকে ৪০০ বছর আগে দত্তপুকুরে চলে এসেছিলেন জটাধারী দত্ত। পরবর্তীকালে নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের নায়েব হন তিনি। জমিদারি সামলানোর সময় জটাধারী একাধিক পুকুর খনন করেন এলাকায়। দত্তদের পুকুর থেকেই মানুষের মুখে মুখে জনপদটির নাম হয়ে যায় দত্তপুকুর। 

Advertisement

১০৩১ বঙ্গাব্দে দত্তপুকুরের নিবাধুই এলাকায় দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন জটাধারী। পরে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের থেকে জমিদারিত্ব পেয়েছিলেন। তখন থেকেই বংশপরম্পরায় দুর্গাপুজো করে আসছে দত্তরা। বর্তমানে ২০ তম প্রজন্মের হাতে পুজোর ভার। এ পুজো নিয়ে দত্তপুকুরের মানুষদের মধ্যেও দেখা যায় উৎসাহ। পরিবারের চণ্ডীদালানে এখন জোরকদমে চলছে মূর্তি তৈরির কাজ। কথিত, দুর্গার মূর্তি কেমন হবে সে নিয়ে স্বপ্নাদেশ পান জটাধারী। এখানে দুর্গা সিংহবাহিনী নন। তাঁর ঘোড়া বাহন। রথের দিন কাঠামো পুজো হয়। তারপর শুরু মাটির কাজ। বহু আগে বলিপ্রথা ছিল। এখন হয় না। নিয়ম মেনে সন্ধিপুজো হয়। বংশপরম্পরা অনুযায়ী, পরিবারের প্রবীণ গৃহবধূ দশমীতে উমাকে বরণ করেন। তারপর বিসর্জনের পালা। মন্দিরের বেদী থেকে দুর্গাকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় বংশের প্রবীণতম বধূ বেদীতে দই ঢালেন। তারপর বেদীর সামনে সেই দইয়ে হাত দিয়ে বসে থাকেন যতক্ষণ না বিসর্জন সম্পন্ন হয় ততক্ষণ। এরপর বিসর্জনে অংশ নেওয়া সকলকে মিষ্টি মুখ করানো হয়। তারাশঙ্কর দত্ত বলেন, ‘নারীশিক্ষার প্রসারে আমাদের বংশের কালিকৃষ্ণ দত্তের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা ছিল। সেই সুত্র ধরেই নারীশিক্ষা প্রসারে দত্তপুকুরে এসেছিলেন বিদ্যাসাগর। মহালয়ার পরের দিন থেকে নবমী পর্যন্ত আমি বংশের নিয়ম মেনে আতপ চালের ভাত খাই।’ তারাশঙ্করের বড় ছেলে পুজোর ম্যানেজিং সেবায়েত রাজীব দত্ত। তিনি বলেন, ‘দত্তপুকুরের মধ্যে আমাদের বাড়ির পুজোই প্রাচীন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ