সংবাদদাতা, বনগাঁ: লোকমুখে এই গ্রামের পরিচিতি হয়ে উঠেছিল ‘মাস্টার গ্রাম’ হিসেবে। কারণ আর কিছুই নয়, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত চন্দন মণ্ডলের হাত ধরে এই গ্রামের বহু যুবক-যুবতী চাকরি পেয়েছিলেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হতেই হাহাকার শুরু হয়েছে বাগদার সেই ‘মাস্টার গ্রামে’। প্রায় প্রতিটি ঘরে শিক্ষক থাকায় মামাভাগ্নে গ্রাম রাতারাতি ‘মাস্টার গ্রাম’-এ পরিণত হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই গ্রামে শুধুই শূন্যতা!
এই গ্রামের বাসিন্দা মিঠুন বিশ্বাস ২০১৬ সালে এসএসসির মাধ্যমে স্কুলে শিক্ষাকর্মী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানায় কর্মরত ছিলেন তিনি। এদিন তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, উনুন পর্যন্ত জ্বলেনি। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ। বাইরে থেকে বেশ কয়েকবার ডাকাডাকিতে বেরিয়ে এলেন মিঠুনের মা মা ষষ্ঠী বিশ্বাস। বললেন, ‘আজকে আমাদের এই অবস্থার জন্য দায়ী চন্দন মণ্ডল।’ তাঁর দাবি, ছেলে পরীক্ষায় পাস করলেও চন্দনকে টাকা দিতে হয়েছিল। জমি বিক্রি করে দু’ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। মিঠুন এবং তাঁর স্ত্রী শম্পা বিশ্বাসের বছর দশেকের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁকে নিয়ে এখন কীভাবে সংসার চালাবেন, ঘোর দুশ্চিন্তা ঘিরে ধরেছে তাঁদের। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই গ্রামে পরপর অনেকে চাকরি পাওয়ায় বদলে গিয়েছিল এলাকার সার্বিক পরিবেশ। পুজো সহ যে কোনও অনুষ্ঠানে উদযাপন করা শুরু হয়েছিল আড়ম্বরের সঙ্গে। এদিন গ্রামে সাংবাদিকদের ঢুকতে দেখে অনেকেই আড়াল খুঁজে নিয়েছেন। প্রসঙ্গত,
বাগদার মামাভাগ্নে গ্রামের বাসিন্দা চন্দন মণ্ডল নিজে একজন পার্শ্বশিক্ষক ছিলেন। তবে অভিযোগ, তাঁর আসল দক্ষতা ছিল চাকরি বিক্রিতে! মোটা টাকার বিনিময়ে চাকরি করে দিতেন অনেকের। চাকরির পরীক্ষায় খাতায় শুধুমাত্র নাম ও রোল নম্বর লিখে দিয়ে এলেই বাকিটা ‘ম্যানেজ’ করা ছিল তাঁর কাছে ‘জলভাত’। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ‘গ্রামে শতাধিক শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ৬০ শতাংশ চাকরি চন্দনের হাত ধরে হয়েছে। এদিনের সুপ্রিম রায়ে এই গ্রামের প্রায় ৪০ জনের চাকরি বাতিল হয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দা মহাদেব সেন বলেন, ‘গ্রামের বহু মানুষ জমি বিক্রি করে চন্দনকে টাকা দিয়েছিল। হাহাকার তো পড়বেই।’