Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২ বাঙালি সহ ৪ ডাক্তারি পড়ুয়ার মৃত্যু উত্তরপ্রদেশে

বুধবার রাতে উত্তরপ্রদেশে এক পথ দুর্ঘটনায় চারজন ডাক্তারি পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন বেলঘরিয়ার বাসিন্দা।

মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২ বাঙালি সহ ৪ ডাক্তারি পড়ুয়ার মৃত্যু উত্তরপ্রদেশে
  • ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর ও বিশেষ সংবাদদাতা, আগরতলা: বুধবার রাতে উত্তরপ্রদেশে এক পথ দুর্ঘটনায় চারজন ডাক্তারি পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন বেলঘরিয়ার বাসিন্দা। দুর্ঘটনাটি ঘটে দিল্লি-লখনউ জাতীয় সড়কের আমরোহা এলাকায়। রাস্তার ধারে একটি ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। পড়ুয়াদের গাড়িটি চলছিল দ্রুত গতিতে। সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই ট্রাকের পিছনে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম অর্ণব চক্রবর্তী, সপ্তর্ষি দাস, আয়ুশ শর্মা ও শ্রেষ্ঠ পাঞ্চোলি। তাঁরা সকলেই উত্তরপ্রদেশের ভেঙ্কটেশ্বর মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছিলেন। ২৫ বছর বয়সি অর্ণবের বাড়ি বেলঘরিয়ার পুবপাড়ায় এবং সপ্তর্ষি দাস ছিলেন ত্রিপুরার বাসিন্দা। স্থানীয় মেধাবী ছাত্রের এই পরিণতিতে বেলঘরিয়া জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

Advertisement

মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ছিলেন তাঁরা। নিজেদের চারচাকা গাড়িতে স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় ডিনারে যাচ্ছিলেন। সেইসময় রাজবপুর থানা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। জায়গাটি দিল্লি-লখনউ জাতীয় সড়কের আতরাসি গ্রাম লাগোয়া। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ির গতি এতটাই বেশি ছিল যে লরির পিছনে সংঘর্ষের আওয়াজ বহু দূর পর্যন্ত পৌঁছে যায়! গাড়ির উপরের অংশ কার্যত উড়ে গিয়েছে। পুরো গাড়িটা দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে দেশলাই বাক্সের মতোই। জানামাত্রই স্থানীয় লোকজন ছুটে যান। খবর যায় রাজবপুর থানায়। পুলিশ পৌঁছে ওই গাড়ি কেটে চার বন্ধুর মৃতদেহ বের করে। দেহগুলি কার্যত দলা পাকিয়ে গিয়েছিল! 
অর্ণবের বাড়ি বেলঘরিয়া পুবপাড়ায়। বাবা অরুণ চক্রবর্তী অবসরপ্রাপ্ত রেল অফিসার। অর্ণব ২০২০ সালে ডাক্তারি ভরতি হন। বুধবার রাতে অরুণবাবুকে ফোনে দুঃসংবাদ জানানো হয়। একমাত্র ছেলের মৃত্যুর খবরে শোকে মুহ্যমান গোটা পরিবার। আগামী জুন মাসে ইন্টার্নশিপ শেষ করে অর্ণবের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। ইতিমধ্যে ক্যুরিয়ারে বিভিন্ন বইপত্র বাড়িতে পাঠানোর কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। বাড়িতে তাঁর জন্য আলাদা একটি ঘরও তৈরি করা হচ্ছিল। আকস্মিক সংবাদে সব স্বপ্নই এলোমেলো। পরিবার সূত্রের খবর, এদিন সকালে অর্ণবের এক বন্ধু এবং পরিবারের দুজন উত্তরপ্রদেশ পৌঁছেছেন। মৃতদেহের ময়নাতদন্তও হয়ে গিয়েছে। দেহ নিয়ে শুক্রবার তাঁদের ফেরার কথা। 
চোখের জল মুছে অরুণবাবু বলেন, ছেলের সঙ্গে বিকেল সাড়ে ৫টায় শেষবার কথা হয়েছিল। রাত ১০টা নাগাদ এক মহিলা ফোনে দুর্ঘটনার কথা জানান। এরপর হস্টেলের ওয়ার্ডেনকে বারবার ফোন করেছি। রাত ১১টা নাগাদ মৃত্যুর খবর জানান তিনি। ছেলের এক বন্ধুর গাড়ি ছিল। সেই গাড়িতে মাঝেমধ্যেই ওরা রেস্তোরাঁয় যেত। কীভাবে কী যে হল...! আমার সব হারিয়ে গেল।  অর্ণব চক্রবর্তীর শোকার্ত পরিজন। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ