


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: এসআইআর চলছিল। তাতে নাম বাদ পড়তে পারত নিখোঁজ মানসিক ভারসাম্যহীন ২৯ ভারতীয়ের। এই আশঙ্কার কথা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে আগেই চিঠি দিয়েছিল হ্যাম রেডিয়োর ওয়েষ্টবেঙ্গল রেডিয়ো ক্লাব। নেপালে থাকা ২৯ জন নিখোঁজকে চিহ্নিতও করেছিল তারা। অবশেষে হ্যামের সৌজন্যে ২৯ জনই ভারতে ফিরতে পারলেন।
নিখোঁজ ছিলেন ১৭ পুরুষ এবং ১২ মহিলা। বহুবছর ধরেই তাঁরা নিখোঁজ। ওয়েস্টবেঙ্গল রেডিও ক্লাবের সম্পাদক অম্বরিশ নাগ বিশ্বাস বলেন, ‘এসআইআরে তাঁদের নাম বাদ পড়লে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণে সমস্যা হতো। তাই আমরা চিঠি কমিশনকে দিয়েছিলাম। প্রত্যেকেই দেশে ফিরেছেন। আমরা খুবই আনন্দিত।’ হারানো মানুষকে বাড়ি ফেরানোর কাজ বহু বছর ধরেই করছে হ্যাম। দেশ হোক বা বিদেশ, নিখোঁজ কিংবা আটকে পড়া কয়েকশো মানুষকে তারা দেশে ফিরিয়েছে। বেশ কয়েকমাস আগে হ্যাম রেডিয়ো কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, ২৯ ভারতীয়কে নেপালে উদ্ধার করা হয়েছে। তারপরই দুই দেশ এবং পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ফেরানোর কাজ শুরু করে হ্যাম। নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং কলকাতায় অবস্থিত নেপাল দূতাবাসের কাছে বারবার যান হ্যামের প্রতিনিধিরা। নেপাল মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি রেখে সাহায্য করে। বহুবছর ধরে নিখোঁজ, বাড়িতে পাওয়া যায়নি, এই অভিযোগে এসআইআরে নাম বাদ যেতে পারে তা আন্দাজ করে কমিশনকে আগাম চিঠি দেয় হ্যাম।
হ্যামের বক্তব্য, নেপালের মানব সেবাশ্রম সংঘ, নেপাল লায়ন্স ক্লাব এবং মহারাষ্ট্রের একটি রিহ্যাবিলেটেশন সেন্টারের সহযোগিতায় এই কাজ সম্ভব হয়েছে। অম্বরিশবাবু বলেন, ‘আপাতত উদ্ধার হওয়া ২৯ জনকে মহারাষ্ট্রে ওই সংগঠনের উদ্যোগে রাখার ব্যবস্থা হয়েছে। সেখানে ওঁদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরে প্রত্যেককে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’ প্রসঙ্গত সারাবছর বিভিন্ন ধরনের মানবিক কাজের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলার হ্যাম রেডিয়ো। ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো শহরে এবার পুরস্কার দেওয়া হবে। যার নাম, ‘হ্যাম ২০২৬ কেশন অ্যাওয়ার্ড’। ফের আন্তর্জাতিক শিরোপা মিলবে তাদের। এবার এআরআরএল, দ্য ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর অ্যামেচার রেডিয়ো (আমেরিকান রেডিয়ো রিলে লিগ) এই পুরস্কার ওয়েস্টবেঙ্গল হ্যাম রেডিয়োর জন্য ঘোষণা করেছে। অম্বরিশবাবু বলেন, ‘এই সম্মানে আমরা আপ্লুত। কাজে আরও উৎসাহ বাড়বে।’