Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শহরে বাস দুর্ঘটনার ২৮ শতাংশই ব্লাইন্ড স্পটের কারণে, নতুন ডিটেকশন আয়নার প্রভাব কেমন? ট্রাফিক গার্ডকে একমাসের মধ্যে রিপোর্ট জমার নির্দেশ

চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত শহরে পথ দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন ৫৫ জন।

শহরে বাস দুর্ঘটনার ২৮ শতাংশই ব্লাইন্ড স্পটের কারণে, নতুন ডিটেকশন আয়নার প্রভাব কেমন? ট্রাফিক গার্ডকে একমাসের মধ্যে রিপোর্ট জমার নির্দেশ
  • ১৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত শহরে পথ দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন ৫৫ জন। যদিও এই সংখ্যা গত বছরের তুলনায় কম। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে এবছর ব্লাইন্ড স্পটের কারণে দুর্ঘটনার জেরে মৃত্যু বেড়েছে। ২০২৪ সালে (এপ্রিল পর্যন্ত) ২৩ শতাংশ পথচারী, বাইক আরোহীর মৃত্যু হয় চালকের ব্লাইন্ড স্পটের জেরে। এবছর (এপ্রিল পর্যন্ত) প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী এই ব্লাইন্ড স্পট। এই অবস্থায় বাস দুর্ঘটনার হার কমাতে নয়া উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা পুলিস। চালকের ব্লাইন্ড স্পটের গেরো দূর করতে বাসে বসানো হচ্ছে নতুন ধরনের আয়না। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন পুলিস কমিশনার মনোজকুমার ভার্মা। সেই আয়নার প্রভাবে কি দুর্ঘটনার কমছে? একমাসের মধ্যে ট্রাফিক বিভাগকে রিপোর্ট আকারে এই প্রশ্নের উত্তর জানাতে হবে। শহরের সবক’টি ট্রাফিক গার্ডকেই এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

Advertisement

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ডালহৌসিতে ৩০টি বাসে ব্লাইন্ড স্পট ডিটেকশন আয়না ইনস্টল করে লালবাজার। মূলত হেড কোয়ার্টার ট্রাফিক গার্ড থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের এক পদস্থ কর্তা বলেন, মে মাসের মধ্যে শহরে বিভিন্ন রুটের আরও ২৭০টি বাসে এই আয়না লাগাবে পুলিস। প্রতিটি ট্রাফিক গার্ডকে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসরুট অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্লাইন্ড স্পট ডিটেকশন আয়না পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি ট্রাফিক গার্ডে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একজন ইনসপেক্টর ও দু’জন করে সার্জেন্টকে। লালবাজারের কর্তাদের কড়া নির্দেশ, এমাসের মধ্যেই এই কাজ শেষ করতে হবে। পাশাপাশি আয়না লাগানোর পর বাস দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পাঠাতে হবে ট্রাফিক বিভাগে। আয়না লাগানোর পর চালকরা কতটা সচেতন হয়েছেন, তা বোঝা যাবে সেই রিপোর্ট থেকেই।
কলকাতা পুলিসের ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক) শ্রীকান্ত জগন্নাথ রাও বলেন, শহরের রাস্তায় বাস দুর্ঘটনার নেপথ্যে মূলত তিনটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, অনেক যাত্রী চলন্ত বাসে ওঠানামার চেষ্টা করেন। দেহের ভারসাম্য রাখতে না পেরে পড়ে গিয়ে পিছনের বাঁদিকের চাকায় পিষ্ট হন যাত্রী। দ্বিতীয়ত, দু’চাকার যানগুলি অনেক সময় বাসের বাঁদিক দিয়ে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। সেক্ষেত্রে বাস চালক ওই বাইক চালককে দেখতে না পাওয়ায় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। তৃতীয়ত, অনেক পথচারী  বিপজ্জনকভাবে বাসের বাঁ দিক ঘেঁষে রাস্তা পারাপার করেন। এই তিন ধরনের দুর্ঘটনা রুখতেই ব্লাইন্ড স্পট ডিটেকশন আয়না লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ