নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মেট্রো লাইনে আত্মহত্যা রুখতে এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল রেল। মেট্রোর রেক ঢোকার আগে প্ল্যাটফর্মের হলুদ লাইন পেরলেই যাত্রীদের গুনতে হবে ২৫০ টাকা ফাইন। আগামী ১ জুন থেকে কলকাতা মেট্রোয় এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। আত্মহত্যা বা আত্মহত্যার চেষ্টার কারণে কবি সুভাষ-দক্ষিণেশ্বর রুটে মাঝেমধ্যেই পরিষেবা থমকে যায়। চরম দুর্ভোগ সইতে হয় যাত্রীদের। শহরের ‘লাইফলাইন’-এর পরিষেবা সামান্য ব্যাহত হলেও সার্বিক পরিবহণ ব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়ে। তাই মেট্রোর লাইনে আত্মহত্যা ঠেকানো রেলকর্তাদের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্যেই কালীঘাট মেট্রো স্টেশনে বসানো হয়েছে স্টিলের গার্ডরেল। যদিও তা আদতে যাত্রীদের যন্ত্রাণার কারণ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। কারণ, এই মুহূর্তে নর্থ-সাউথ করিডরে তিন ধরনের মেট্রো রেক চলে। প্রত্যেকটির আকার, আয়তন ভিন্ন। ফলে প্ল্যাটফর্মে রেকগুলি পৌঁছলে দরজার অবস্থান আলাদা আলাদা হয়। তাই ওঠানামা করার সময় গার্ডরেলে ধাক্কা খেতে হয় যাত্রীদের।
তড়িঘড়ি বহু টাকা ব্যয় করে এই ‘অবাস্তব’ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দায়ী মেট্রোকর্তাদের অনেককে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা এতদিন বিকল্পের সন্ধানে ছিলেন। মেট্রো ভবনের এক কর্তার কথায়, ‘এই মেট্রো রুট দেশের মধ্যে সবচেয়ে পুরনো। তাই এখানে খুব বেশি পরিবর্তন-পরিমার্জন করা যাবে না। অনেকেই ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর মতো নর্থ-সাউথেও প্ল্যাটফর্মে গ্লাস ডোর বসানোর কথা বলেন। কিন্তু এখানে কাচের দেওয়াল তোলার সুযোগ নেই। তাই প্ল্যাটফর্মে লক্ষ্মণরেখা টেনে আত্মহত্যা বন্ধ করার পরিকল্পনা হয়েছে।’ তাঁর দাবি, যাত্রীদের এ বিষয়ে আরও সচেতন করা হবে। লাগাতার চলবে প্রচার। নিয়ম অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মের ওই হলুদ রেখা কখনওই অতিক্রম করা যায় না। কিন্তু যাত্রীদের অধিকাংশই তা জানে না। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, স্টেশনে মেট্রো ঢোকার বহু আগে থেকে আত্মহত্যার জন্য আসা ব্যক্তি হলুদ লাইন পার করে দাঁড়িয়ে থাকছেন। রেক ঢুকলেই ঝাঁপ দিচ্ছেন লাইনে। তাই আগামী দিনে স্টেশনে সিসিটিভির পাশাপাশি নিরাপত্তা কর্মীরা লাগাতার নজরদারি চালাবেন। মেট্রো রেক প্ল্যাটফর্মে পৌঁছনোর আগে হলুদ রেখা ক্রস করলেই জরিমানা গুনতে হবে যাত্রীদের। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, মে মাস শেষ হতে আর দিন পাঁচেক বাকি। তার মধ্যে নতুন এই নিয়ম চালুর বিষয়টি সর্বস্তরের যাত্রীর কাছে পৌঁছবে তো?