


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সল্টলেক বিকাশ ভবনের সামনে আন্দোলন চলছে চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের। গত ১৫ মে’র রাতে বিকাশ ভবনে হামলা, ভাঙচুর, পুলিসকে মারধরের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছিল পুলিস। সেই এফআইআর অনুযায়ী, ওইদিন দুই আইপিএস অফিসারসহ ২১ জন পুলিসকর্মী জখম হয়েছেন। দুই আইপিএসের মধ্যে একজন ডেপুটি পুলিস কমিশনার পদ মর্যাদার এবং একজন অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিস কমিশনার পদ মর্যাদার অফিসার। বাকি ১৯ জনের মধ্যে তিনজন ইনসপেক্টর পদমর্যাদার অফিসার, একজন এএসআই, একজন মহিলা কনস্টেবল এবং ১৪ জন কনস্টেবল রয়েছেন।
গত ১৫ মে বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষোভরত চাকরি শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সঙ্গে পুলিসের খণ্ডযুদ্ধ বেধেছিল। পুলিস বারবার শান্ত হতে বললেও সেদিন বিক্ষোভ চরমে উঠেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিক্ষোভকারীদের উপর যেমন বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছিল, তেমনই বিকাশ ভবনের ভাঙচুর, কর্তব্যরত পুলিসকর্মীদের মারধর, সরকারি কাজে বাধাসহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বিরুদ্ধেও। সেই মর্মে বিধাননগর উত্তর থানায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে বিধাননগর কমিশনারেট। সেখানে ৩২৯ (৩), ৩২৯ (৪), ১৯১ (২), ১২৬ (২), ১২৭ (২), ১২১, ২২৩ (বি), ২২৪, ১৩২, ৩৩১ (৪), ৩৫১ (১), ২২১, ৬১, ৩(৫) বিএনএস এবং ৩ (১) পিডিপিপি অ্যাক্টে মামলা রুজু হয়েছে।
ওই মামলায় ১৫ জনের বেশি অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীকে নোটিস পাঠিয়ে বিধাননগর উত্তর থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। নোটিসের শেষে স্পষ্ট লিখে দেওয়া হয়েছে, হাজির না-হলে বিএনএসএসের ৩৫(৬) ধারায় গ্রেপ্তার করা হবে। সোমবার থেকে আজ, বুধবার পর্যন্ত তিনদিন ধরে পাঁচজন করে হাজির থাকতে বলা হয়েছিল। তবে, সোমবার ও মঙ্গলবার কেউই থানায় যাননি। কমিশনারেট সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু শিক্ষাদপ্তর নয়, বিকাশ ভবনে প্রায় ৫৫টি সরকারি অফিস রয়েছে। অফিসার ও কর্মীর সংখ্যা হাজারের বেশি। তাঁদের সকলকে সেদিন ছুটির পরেও আটকে রাখা হয়েছিল। অফিস থেকে বেরতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকী, কয়েকজন কর্মী পাঁচিল ডিঙিয়ে মেট্রো স্টেশনে ঢুকলে সেখানে গিয়ে তাঁদের মারধর করা হয়েছে। যে মহিলা পুলিস কর্মীকে মারধর করা হয়েছে, তাঁর নাকের উপরের হাড় ও দাঁত ভেঙে গিয়েছে। তিনি চিকিৎসাধীন। তাই আইনি পদক্ষেপ করেছে কমিশনারেট। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁরা নোটিস পেয়েও থানায় হাজির হননি, তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ শুরু হবে।