নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: গতবছর বর্ধমান স্টেশনে জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে বিপর্যয় হয়েছিল। কয়েকদিন আগে প্ল্যাটফর্মে নামার সময় পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় রেলের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। উৎসবের মরশুমে এই ঘটনায় আসানসোলে ডিভিশনের রক্তচাপ বেড়েছে। উৎসবের কয়েকদিন শিল্পাঞ্চলের স্টেশনগুলিতে রেকর্ড ভিড় হয়েছে। এরপর ছট উপলক্ষ্য স্টেশন ও ট্রেনে যাত্রীদের ঢেউ আছড়ে পড়তে চলেছে। এই অবস্থায় বর্ধমানের মতো দুর্ঘটনা এড়ানোই চ্যালেঞ্জ রেলের।
বর্ধমানের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে রেলের আসানসোল ডিভিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কোনও ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম নম্বর একবার ঘোষণা হয়ে গেলে তা আর কোনও অবস্থায় পরিবর্তন করা হবে না। বুধবার ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিস্তারিত জানান আসানসোলের ডিআরএম বিনীতা শ্রীবাস্তব সহ ডিভিশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তাঁরা তথ্য তুলে ধরে জানিয়েছেন, ১-২০অক্টোবর আসানসোল স্টেশনেই ১৩লক্ষ ৪০হাজার ৬৪৬জন এসেছেন। মাত্র ২১দিনে বিপুল সংখ্যক মানুষ স্টেশন ব্যবহার করেছেন। দুর্গাপুর স্টেশনে ৮লক্ষ ১৬হাজার ২২৮জন এসেছেন। পিছিয়ে নেই জসিডি স্টেশনও। সেখানে ৬লক্ষ ৯৮হাজার ৯০৩জন এসেছেন। রেলের দাবি, তাঁদের ডিভিশনের উপর দিয়ে মোট ৪২জোড়া উৎসব স্পেশাল ট্রেন যাতায়াত করছে। গতবছর যে সংখ্যা ছিল মাত্র ২৩ জোড়া। সাংবাদিক সম্মেলন করে যাত্রীদের কাছে আর্জি করা হয়েছে, আসানসোল, জসিডি ও মধুপুরে স্টেশনে যাত্রীদের জন্য ‘হোল্ডিং এরিয়া’ করা হয়েছে। সেখানে যাত্রীরা অপেক্ষা করতে পারবেন। ট্রেন আসার আগে আরপিএফ ও রেলকর্মীরা তাঁদের গাইড করে ট্রেনে তুলে দেবেন। লাইন দিয়ে ট্রেনে ওঠার ব্যাপারে আবেদন জানানো হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য ছটের সময় স্টেশনে ঢোকা ও বেরনোর আলাদা গেট রাখা হবে। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, উৎসবের সময় ভিড় মোকাবিলায় বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে যেখানে ২৪ঘণ্টা নজরদারির জন্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে টিম তৈরি করা হয়েছে। কোনওরকম অস্থিরতা নজরে এলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
যাত্রীরা বলেন, ভিড় নিয়ন্ত্রণে রেল কর্তৃপক্ষের সতর্ক হওয়া দরকার। না হলে বর্ধমান স্টেশনের মতো হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।-নিজস্ব চিত্র