নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: তখনও রাতের অন্ধকার কাটেনি। রায়নার শ্রীধরপুরে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে দুই মাঝবয়সি মহিলা। দু’টি ব্যাগ পাশে নামানো রয়েছে। তাদের দেখে রায়না থানার টহলদারি ভ্যানের সন্দেহ হয়। ভ্যান থেকে নেমে পুলিস দুই মহিলাকে জেরা শুরু করে। তারা জানায়, বাস ধরার জন্য দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাতে অবশ্য পুলিসের সন্দেহ দূর হয়নি। ব্যাগ থেকে গাঁজার গন্ধ তাদের নাকে আসে। ব্যাগের চেন খুলতেই দেখা যায় গাঁজা ভর্তি রয়েছে। এরপর আর পুলিস দেরি করেনি। ‘পাতা’ সরবরাহকারী দুই ‘ডেলিভারি গার্লকে’ গ্রেপ্তার করে রায়না থানার পুলিস। বর্ধমান থেকে তারা রায়নার শ্রীধরপুরে এক কারবারিকে গাঁজা সরবরাহ করতে এসেছিল। পাচারকারীদের কাছে গাঁজা ‘পাতা’ নামে পরিচিত। পুলিস জানিয়েছে, ধৃত দুই মহিলার নাম মানু বিবি এবং আদুরি যশ। তাদের বাড়ি বর্ধমান থানা এলাকায়। তারা দু’টি ব্যাগে ৪৩ কেজি গাঁজা নিয়ে এসেছিল। কিন্তু হস্তান্তরের আগেই তারা ধরা পড়ে যায়। বর্ধমান দক্ষিণের মহকুমা পুলিস আধিকারিক অভিষেক মণ্ডল বলেন, তারা কাকে গাঁজা সরবরাহ করতে এসেছিল, সেটা তাদের জেরা করে জানা হবে।
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ওই দুই মহিলা বর্ধমানের এক ‘ডিলার’ এর অধীনে ক্যারিয়ারের কাজ করত। ওড়িশা থেকে গাঁজা এনে ওই ডিলার বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করে। ওই দুই মহিলা পুলিসকে জেরায় জানিয়েছে, রায়না, মেমারি এবং বর্ধমান শহরের বিভিন্ন এলাকায় তারা গাঁজা সরবরাহ করে। তাদের ক্রেতা মূলত কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। বিগত তিন থেকে চার বছরে গাঁজার চাহিদা বেড়ে গিয়েছে। ছোট ছোট পুরিয়া দেড়শো থেকে দু’শো টাকায় বিক্রি হয়। কোনও সময় কোচবিহার এবং অসম থেকেও গাঁজা আসে। তবে ওই দুই জায়গার নেশার সামগ্রীর দাম অনেক বেশি। তাছাড়া সেখান থেকে তা নিয়ে আসাও ঝক্কির। ওড়িশার গাঁজার দাম কম, লাভও বেশি। তাছাড়া ঝক্কিও কম। বেশির ভাগ সময় পণ্যবাহী গাড়িতে গাঁজা আনা হয়। কিছুদিন আগে গ্যাংপুর থেকেও পুলিস এক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছিল। এছাড়া মেমারি শহর থেকেও এক মহিলা গাঁজা পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু তারপরও কারবার বন্ধ হয়নি। ধৃত দু’জন পুলিসকে জানিয়েছে, নির্দিষ্ট ঠিকানায় গাঁজা ভর্তি ব্যাগ পৌঁছে দিতে পারলে দুই থেকে তিন হাজার টাকা কমিশন দেওয়া হয়। ধরা পড়লে কারবারের মাস্টারমাইন্ডরা আইনি সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছিল। মহকুমা পুলিস আধিকারিক বলেন, তারা বিভ্রান্তমূলক তথ্য দিচ্ছে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। চক্রের মাস্টারমাইন্ডদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই দুই মহিলা কোনও একটি গাড়ি চড়ে রায়নার শ্রীধরপুর এলাকায় এসেছিল। সেখান থেকে অন্য আরেকজন গাঁজার ব্যাগ দু’টি নিয়ে যেত। কিন্তু তার আগেই পুলিস তাদের জালে তোলে।