Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অশোকনগরে কিডনি পাচার-কাণ্ড: দাতা-গ্রহীতার যোগাযোগ নিয়ে জবাব এড়ালেন নেফ্রোলজি সেন্টারের ২ কর্তা

কিডনি দাতাদের সঙ্গে গ্রহীতাদের কোনও সম্পর্ক নেই। তারপরও কীভাবে সম্ভব হচ্ছে কিডনি প্রতিস্থাপন? দাতা-গ্রহীতার যোগাযোগ হল কীভাবে? সুদখোর বিকাশ ঘোষ ওরফে শীতল ও অন্যান্য অসাধু কারবারির সঙ্গে যোগসাজশে এখনও পর্যন্ত ক’টা কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে?

অশোকনগরে কিডনি পাচার-কাণ্ড: দাতা-গ্রহীতার যোগাযোগ নিয়ে জবাব  এড়ালেন নেফ্রোলজি সেন্টারের ২ কর্তা
  • ৩১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কিডনি দাতাদের সঙ্গে গ্রহীতাদের কোনও সম্পর্ক নেই। তারপরও কীভাবে সম্ভব হচ্ছে কিডনি প্রতিস্থাপন? দাতা-গ্রহীতার যোগাযোগ হল কীভাবে? সুদখোর বিকাশ ঘোষ ওরফে শীতল ও অন্যান্য অসাধু কারবারির সঙ্গে যোগসাজশে এখনও পর্যন্ত ক’টা কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে? এরকম একাধিক প্রশ্নের ‘জবাব’ এড়ালেন কলকাতার নামকরা নেফ্রোলজি সেন্টারের দুই কর্তা। বৃহস্পতিবার প্রায় ছ’ঘণ্টা (বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত) তাঁদের অশোকনগর থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস। সূত্রের খবর, দীর্ঘ জেরায় কার্যত ভেঙে পড়েন তাঁরা। তাঁদের কথাবার্তায় একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে।

Advertisement

এই ঘটনায় জড়িত আইনজীবী কীভাবে ‘নট রেকমেন্ডেড’ আবেদনকে ‘রেকমেন্ডেড’ করানোর ব্যবস্থা করতেন, জানতে চাওয়া হয় ওই দু’জনের কাছে। জেরায় তাঁদের দাবি, স্রেফ সম্পর্কের খাতিরেই নাতি এই কাজ তিনি করাতেন! কিডনি দানের অনুমতি প্রদানের জন্য জেলা ও রাজ্যস্তরে দু’টি কমিটি রয়েছে। নেফ্রোলজি সেন্টার থেকে দাতা ও গ্রহীতার প্রাথমিক শারীরিক রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রথমে পুলিস ভেরিফিকেশন হয়। তারপর মহকুমা স্তরে হয় শুনানি। সেই রিপোর্ট পাঠানো হয় রাজ্যস্তরে। সেই সঙ্গে আদালত থেকে এফিডেভিট করাতে হয় কিডনিদাতাকে। দাতা ও গ্রহীতার পূর্ব পরিচয়ও থাকতে হয়। কিন্তু, সংশ্লিষ্ট নেফ্রোলজি  সেন্টারে এসবের কোনও বালাই ছিল না বলেই জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। এখানেই তদন্তকারীদের মনে প্রশ্ন জাগে, তাহলে দু’টি আালাদ রাজ্যের দাতা-গ্রহীতা কীভাবে যোগাযোগ করতেন? সূত্রের খবর, এই প্রশ্নের মুখে কার্যত নীরব থাকেন ওই দুই কর্তা। তাই পুলিস মনে করছে, আন্তঃরাজ্য এই কিডনি পাচার চক্রের মাথা লুকিয়ে থাকতে পারে এই নেফ্রো সেন্টারেই। 
এছাড়া, শীতলদের সঙ্গে এই গ্যাং গোটা কলকাতায় সক্রিয় বলে আঁচ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এমনকী, স্রেফ ‘খদ্দের’ ধরার জন্য এই সেন্টার কয়েকজন কর্মী নিয়োগ করে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন দুই কর্তা। একাধিক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন। তাই দু’-তিন দিন পর কাগজপত্র নিয়ে ফের তাঁদের পুলিসের জেরার মুখোমুখি হতে ববে বলে জানা গিয়েছে। 
তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, এই কিডনি পাচারচক্র ভাঙতে হলে প্রশাসনের শীর্ষস্তরের সবুজ সঙ্কেত প্রয়োজন। তা না হলে আগামী দিনে মানুষ আরও বঞ্চিত ও প্রতারিত হবে। অশোকনগর থানার পুলিস কি পারবে তদন্তের জাল গোটাতে? সেটাই এখন দেখার। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ