নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: চুরি করা সোনায় বেশি খাদ মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে হাল্কা ওজনের নেকলেস, চেন ও লকেট। সেইসব চোরাই সোনার সামগ্রী রেলপথে পাচার করা হচ্ছে বিহারের বাজারে। সোমবার গভীর রাতে শালিমার রেল স্টেশনে তল্লাশি চালিয়ে শতাধিক সোনার লকেট সহ বিহারের দুই বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করেছে জিআরপি। ধৃতদের নাম সুরজ কুমার ও ধীরাজ কুমার। তারা বিহারের ভোজপুর জেলার নেহরুনগর ও মীরগঞ্জের বাসিন্দা। ধৃতদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে প্রায় পাঁচশো গ্রাম সোনার সামগ্রী। আন্তঃরাজ্য এই সোনা পাচার চক্রের সঙ্গে আরও অনেকে যুক্ত রয়েছে বলে মনে করছেন রেল পুলিসের কর্তারা।
সোমবার গভীর রাতে শালিমার স্টেশনে রুটিন টহলদারি চালাচ্ছিলেন জিআরপির আধিকারিকরা। স্টেশনের এন্ট্রি পয়েন্টের কাছে ব্যাগ হাতে ওই দুই যুবকের গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় পুলিসের। এরপরই তাদের আটক করা হয়। সঙ্গে থাকা ব্যাগ খুলতেই বের হতে থাকে একের পর এক সোনার চেন, নেকলেস ও লকেট। সব মিলিয়ে শতাধিক সোনার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যার মোট ওজন ৪৮৫.৭৯ গ্রাম। এই সোনার কোনও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি অভিযুক্তরা। সঙ্গে সঙ্গে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে এই সমস্ত সোনার চেন ও নেকলেস নিয়ে অভিযুক্তরা বিহারে যাচ্ছিল। পাটনাগামী কোনও ট্রেন ধরার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে শুধু এই দুজনই নয়, সেই সময় প্ল্যাটফর্ম ও তার আশপাশে পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিল বলে সন্দেহ পুলিসের। অভিযুক্তদের আটক হতে দেখেই চম্পট দেয় বাকিরা। শালিমার জিআরপির এক আধিকারিক বলেন, ধৃতদের পাঁচ দিনের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের বাকিদের খোঁজ করা হবে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে বারাসত, বারাকপুর, মধ্যমগ্রাম সহ শহরতলির ছোট ছোট সোনার কারিগরদের কাছে পৌঁছচ্ছে চোরাই সোনা। স্যাকরাদের দিয়ে সেই সমস্ত সোনার সঙ্গে পঞ্চাশ শতাংশেরও বেশি খাদ মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নেকলেস, লকেট। এরপর সেই সব সোনার সামগ্রী বিহারের বাজারে পাচার করা হচ্ছে। যদিও পাকা সোনার দামেই বিহারে বিকোচ্ছে এই চোরাই সোনার অলঙ্কার। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া বিহারের দুই যুবক সুরজ ও ধীরাজ মূলত হ্যান্ডেলার হিসেবে কাজ করত। চোরাই সোনার সামগ্রী রেল
পথে পাচার করাই ছিল তাদের
কাজ। -নিজস্ব চিত্র