Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তেহট্টের পর থানারপাড়া, অসমের সাইবার প্রতারণা চক্রের ২ এজেন্ট ধৃত

তেহট্টের পর থানারপাড়া, অসমের সাইবার প্রতারণা চক্রের  ২ এজেন্ট ধৃত
  • ১০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তেহট্ট: বেঙ্গালুরু শহরের বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক  অ্যাকাউন্টে হানা দিয়ে প্রায় চার কোটি টাকা আর্থিক প্রতারণার ঘটনায় নদীয়ার তেহট্ট থানা এলাকা গ্রেপ্তার হয়েছিল তিনজন। এর ঠিক দু’সপ্তাহের মাথায় পড়শি রাজ্য অসমে ৬ কোটি টাকা আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে থানারপাড়া থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হল তিন প্রতারক। থানারপাড়া থানা এলাকার পন্ডিতপুরের একটি ঝুপড়ি ঘরে বসে অসমের বিশেষজ্ঞ সাইবার প্রতারকদের সাহায্যে স্থানীয় ২ যুবক এই প্রতারণা চক্র চালাচ্ছিল। 

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গেছে, অসমের বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিত থানারপাড়ার ধৃতরা। তদন্তে উঠে আসছে, তারা একটি বড় সাইবার প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত। 
 গত ৪ ফেব্রুয়ারি  থানারপাড়া থানার কাছে খবর আসে যে, অসমের  কয়েকজন ব্যক্তি পন্ডিতপুর এলাকায় সন্দেহজনকভাবে বসবাস করছে এবং সারাদিন অনলাইনে বিভিন্ন কার্যকলাপ চালাচ্ছে। এরপর পুলিস নজরদারি শুরু করে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে অসমের ধুবড়ি জেলার বাসিন্দা সেলিম রেজা, থানারপাড়ার মোজাম্মেল মণ্ডল ও বাদশা শেখকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের কাছ থেকে ৬টির বেশি মোবাইল, ৩০টিরও বেশি সিম কার্ড, বেশ কিছু এটিএম কার্ড ও ব্যাঙ্কের পাসবুক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিস  সন্দেহ করছে, এই চক্রের মাধ্যমে ৬-৭ কোটি টাকা প্রতারণা করা হয়েছে।
ধৃতদের পুলিসি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস জানতে পেরেছে, গত বছর ফেব্রুয়ারিতে অসমের একটি সাইবার প্রতারণা চক্রের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়। সেলিম রেজার মধ্যস্থতায় মোজাম্মেল ও বাদশা অসমে গিয়ে প্রতারণার প্রশিক্ষণ নেয়। এরপর নদিয়ার পন্ডিতপুরে বসে পুরো প্রতারণা চক্র চালানোর পরিকল্পনা নেয় তারা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রতারকদের মূল মাথা অবস্থান করছে অসমে।  থানারপাড়ায় ধৃতরা মূলত কমিশন এজেন্ট হিসেবে কাজ করত। তারা প্রতারণার মাধ্যমে হাতানো টাকার ১০-২০ শতাংশ কমিশন পেত। সেই সঙ্গে পুলিসকে তারা এটাও জানিয়েছে বিভিন্ন মানুষের অ্যাকাউন্ট ভাড়া বা তাঁদের অজান্তে অ্যাকাউন্ট বই নিয়ে এই প্রতারণা চালাত। এমন অনেকে রয়েছেন, তাঁরা জানেনই না তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে অনেক টাকার লেনদেন হয়েছে। প্রতারকরা গ্রামীণ এলাকার দুঃস্থ, দরিদ্র মানুষদের অ্যাকাউন্ট টার্গেট করে এই কাজ করত। অতিরিক্ত পুলিস সুপার গ্রামীণ উত্তম ঘোষ বলেন, ‘আমরা যত সাইবার ক্রাইম কেস দেখছি তাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অন্যের অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে এই প্রতারণা চলছে। তাই আমরা সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করেছি। মানুষ সচেতন হলে এই প্রতারণা অনেক অংশে কমে যাবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ