নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদাদাতা ইসলামপুর: মোবাইল চুরির অপবাদে শিশু শ্রমিককে উল্টো করে ঝুলিয়ে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার ঘটনায় রীতিমতো অংশগ্রহণ করেছিল কারখানার কর্মী মোস্তাফা কামাল ও তৌহিদ আলম। তারা ওই নাবালককে দড়ি দিয়ে বেঁধেছিল। ঘটনার পর থেকে বেপাত্তা এই দুজনকে স্থানীয় সন্তোষপুর সংলগ্ন এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করল রবীন্দ্রনগর থানা। ধরা পড়ার পর দুজনেই বারবার বয়ান বদল করায় তাদের প্রতি সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। যদিও ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মহম্মদ শাহেনশাহ এখনও পলাতক। এদিকে দোষীদের গ্রেপ্তার ও কিশোরকে উদ্ধারের দাবিতে বুধবার সকালে ইসলামপুর পাটগোরা রোডে আগুন জ্বেলে অবরোধ করে ঘণ্টাখানেক বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় গ্রামবাসীরা। এর জেরে যান চলাচল বিপর্যস্ত হয়। পরে পুলিসের আশ্বাসে অবরোধ ওঠে।
শিশু শ্রমিক নিখোঁজের ঘটনার তদন্তে নেমে ওই কারখানায় কারা কারা কাজ করত, তাদের নামের তালিকা জোগাড় করেন তদন্তকারীরা। নাবালককে নির্যাতন পর্বে কারা কারা সেখানে হাজির ছিল, তাদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়। স্থানীয় সূত্র মারফৎ পুলিস জানতে পারে, সব কর্মী ওইদিন সেখানে ছিল না। তদন্তে উঠে আসে মোস্তাফা ও কামাল ঘটনাস্থলে ছিল। দেখা যায় দুজনেরই মোবাইল বন্ধ। হঠাৎই মঙ্গলবার রাতে পুলিসের কাছে খবর আসে, মোস্তাফা একজনকে কল করেছে। সেই টাওয়ার লোকেশন ধরেই জানা যায় তারা সন্তোষপুর লাগোয়া এলাকায় রয়েছে। এরপরই সেখানে হানা দিয়ে দুজনকে ধরা হয়।
দুই অভিযুক্ত পুলিসকে জানিয়েছে, ওই শিশু শ্রমিক তাদের সঙ্গেই কাজ করত। মালিক শাহেনশাহ মোবাইল চুরির পর তাকে সন্দেহ করে। কারণ মোবাইলটি যেখানে ছিল, সেখানে একমাত্র ওই কিশোর গিয়েছে। অভিযুক্তরা দাবি করেছে, কারখানায় থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে ওই নাবালক মোবাইল হাতাচ্ছে। যদিও ওই ফুটেজ বতর্মান যাচাই করে দেখেনি। পুলিসের জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা জানিয়েছে, কারখানার মালিক শাহেনশাহ কর্মীদের বলে দড়ি দিয়ে বেঁধে ওই শিশু শ্রমিককে ঝুলিয়ে দিতে। সেইমতো দড়ি দিয়ে তারা বাঁধে ওই শিশু শ্রমিককে। তারপর সকলে মিলে মারধর করে। বিদ্যুতের শক দিচ্ছিল মালিক ও তার এক ঘনিষ্ঠ শাগরেদ। কিন্তু নির্যাতিত কোথায় গেল, তাই নিয়ে তারা বিভিন্ন রকম বয়ান দিচ্ছে পুলিসকে। প্রথমে তৌহিদ ও মোস্তাফা দুজনেই জানায়, মারধর ও বিদ্যুতের শক দেওয়ার পর খুলে দেওয়া হয় কিশোরকে। এরপরই কারখানা ছেড়ে শিশু শ্রমিক পালিয়ে যায়। কিন্তু কোথায় গিয়েছে জানে না। এরপরই আবার বয়ান বদল করে বলে মারধরের পর তাদের কারখানা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। সেইমতো চলে গিয়েছিল। তাই বলতে পারছে না। আবার জেরার মুখে দুজনেরই দাবি, মালিক শাহেনশাহ ওই কিশোরকে নিয়ে গিয়েছে। মালিকের গাড়িতে তোলা হয়েছিল নাবালককে। এতে বিভ্রান্তি বেড়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, কোন কিছু গোপন করার চেষ্টা করছে দুজন। তাদের জেরা করে কিশোরের খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা চলছে। কারখানার মালিক শাহেনশাহ নতুন কোনও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করছে কি না, সেটা নিয়েও খোঁজখবর শুরু হয়েছে। ঘটনার তদন্তে বুধবারই রায়গঞ্জ পৌঁছেছে রবীন্দ্রনগর থানার পুলিস। নাবালকের বাবা এদিনও বলেন, ছেলেকে ফিরে পেতে চাই। দোষীদের এখনও পুলিস গ্রেপ্তার করেনি। এখনও খোঁজ না মেলায় মনে হচ্ছে ছেলেটাকে মেরে ফেলেছে। বুধবার ইসলামপুরের রাস্তায় বিক্ষোভ।-নিজস্ব চিত্র