Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভূতঘাটে ১৮৫ মিলিয়ন গ্যালন জল তুলে পরিশোধন, পৌঁছবে বাড়িতে!

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। অবশেষে পরিস্রুত মিষ্টি পানীয় জল পেতে চলেছেন রাজপুর সোনারপুর পুরসভার মানুষজন।

ভূতঘাটে ১৮৫ মিলিয়ন গ্যালন জল তুলে পরিশোধন, পৌঁছবে বাড়িতে!
  • ২৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। অবশেষে পরিস্রুত মিষ্টি পানীয় জল পেতে চলেছেন রাজপুর সোনারপুর পুরসভার মানুষজন। ‘অম্রুত’ প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি জলের সংযোগ পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। সেই কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। সোমবার প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখে পুরসভার একটি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শন শেষে তারা আশাবাদী, পুজোর আগেই গঙ্গার জল পরিশোধন করে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি সরবরাহের কাজ শুরু হয়ে যাবে।

Advertisement

বর্তমানে এই পুরসভা এলাকার মানুষকে পানের জন্য মূলত ভূগর্ভস্থ জলের উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এর ফলে যেভাবে ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে যাচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে জল সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাছাড়া, মাটির নীচের জলে আর্সেনিকের উপস্থিতিও থাকতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। পরিস্রুত পানীয় জলের নয়া প্রকল্প চালু হয়ে গেলে ভূগর্ভস্থ জলের উপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যাবে। প্রকৃতির ভারসাম্যও রক্ষিত হবে বলে আশাবাদী পুর-প্রশাসন। 
তবে কেবল রাজপুর সোনারপুর পুরসভা নয়, এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে কলকাতা এবং বারুইপুর পুরসভাও। গঙ্গার জল ওই দুই পুরসভার পরিশোধন কেন্দ্রে শোধন করে বণ্টন করা হবে বলে ঠিক হয়েছে। গার্ডেনরিচের ভূতঘাট ইনটেক জেটি থেকে গঙ্গার জল তোলার জন্য বসানো হয়েছে সাতটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন পাম্প। এর মধ্যে চারটি কাজে লাগানো হবে। বাকি তিনটি থাকবে আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য। ওই জল বড় পাইপলাইনের মাধ্যমে ১৭.৬ কিলোমিটার দূরে রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের পেয়ারাবাগানে অবস্থিত ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে চলে আসবে। সেখানে জল একাধিক ধাপে শোধন করা হবে। তারপর পাইপের সাহায্যে পরিস্রুত জল ওভারহেড ট্যাঙ্ক ও রিজার্ভার থেকে  পৌঁছে যাবে বাড়ি বাড়ি। বর্তমানে চেতলা লকগেটের কাছে এই প্রকল্পের পাইপ বসানোর কাজ সামান্য বাকি। টালিনালা বা আদি গঙ্গার ধার ঘেঁষে ছোট ছোট কংক্রিটের বিম তৈরি করে পেয়ারাবাগান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছে মোটা পাইপলাইনটি। 
রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পল্লব দাস বলেন, ‘প্রতিদিন ইনটেক জেটি ১৮৫ মিলিয়ন লিটার জল গঙ্গা থেকে উত্তোলন করবে। এর মধ্যে ৪৫ মিলিয়ন লিটার জল যাবে কলকাতা পুরসভায়। ১৬ মিলিয়ন লিটার পাবে বারুইপুর পুরসভা। এই দুই পুরসভার পৃথক ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরি হচ্ছে। বাকি ১২৪ মিলিয়ন লিটার জল রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে যাবে। সেখানে শোধন হওয়ার পর পরিস্রুত জল সরবরাহ হবে বাড়িতে। রাজপুর সোনারপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল নজরুল আলি মণ্ডলের কথায়, ‘এই প্রকল্প চালু হওয়ার পর গজিয়ে ওঠা জলের কারখানাগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে। রাস্তার টাইম কল পরিষেবাও বন্ধ হয়ে যাবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ