নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ থেকে ১৫০ বছর আগে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, আনন্দমোহন বসু, শিবনাথ শাস্ত্রী একত্রে শুরু করেছিলেন ভারতসভা। উদ্দেশ্য ছিল ঐক্য ও রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ। স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ভারতসভা আগামী ২৬ জুলাই ১৫০ বছরে পদার্পণ করতে চলেছে। বিশিষ্ট মানুষজনের উপস্থিতিতে পালিত হবে দিনটি। দুষ্প্রাপ্য লেখা, ছবি সম্বলিত স্মরণিকা প্রকাশিত হবে।
এর পাশাপাশি থাকছে মাতঙ্গিনী হাজরাকে নিয়ে তথ্যচিত্র প্রকাশ, শোভাযাত্রা, সেমিনার। ভারতসভার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মানিকচন্দ্র দলুইয়ের স্মৃতিচারণায় উঠে এল অনেক পুরনো কথা। তিনি বলছিলেন, ‘১৮৭৬ সালের ২৬ জুলাই কলকাতার অ্যালবার্ট হলে (বর্তমান কফি হাউস) প্রায় ৬০০ জন উচ্চশিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালির উপস্থিতিতে স্থাপিত হয় ভারতসভা। উদ্দেশ্য ছিল চারটি। দেশবাসীকে ঐক্য ও জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা। রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি ও হিন্দু-মুসলমানের সম্প্রীতি বজায় রাখা। মনে রাখতে হবে, এই বিষয়গুলি এখনও প্রাসঙ্গিক।’ সেই সঙ্গে শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল ভারতসভা। স্বাধীনতার আগে অসমে চা শ্রমিকদের আন্দোলন, অ্যালবার্ট বিল, রেলযাত্রীদের আন্দোলন সহ একাধিক আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে ভারতসভার। মানিকবাবু বলছিলেন, ‘এখন সময় বদলেছে। নির্বাচিত সরকার দ্বারা পরিচালিত রাষ্ট্রেও সমূহ প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে ভারতসভাকে। সমস্যা তো আছেই। তার মধ্যেই আমরা এখনও মানুষকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করার কাজ করছি। গণতন্ত্রের বিপন্নতা নিয়ে আমরা আলোচনা সভা করেছি।’
কয়েক বছর আগে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ১০০ বছরের পুরনো বই ‘এ নেশন ইন মেকিং’ পুনরায় প্রকাশিত করে ভারতসভা। ১৫০ বছরের স্মরণিকাতে থাকছে ২৫০-এর বেশি দুষ্প্রাপ্য ছবি। থাকছে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পারিবারিক অ্যালবামের কিছু ছবিও। বিভিন্ন সময় ভারতসভায় পা রেখেছিলেন ভি ভি গিরি, ভেঙ্কট রমন, জ্যোতি বসুর মতো ব্যক্তিত্ব। তাঁদের ছবি ও প্রবন্ধ থাকছে স্মরণিকায়। আজাদ হিন্দ ফৌজের জেনারেল শাহ নওয়াজ ১৯৪৬ সালে ভারতসভায় এসেছিলেন। দুপুরের খাবার খেয়েছিলেন তিনি। থাকছে সেই ছবিও। শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ভারতসভা ১৫০ বছর পরেও যেভাবে আলোকবর্তিকা হয়ে পথ দেখাচ্ছে, ফিরে দেখা হবে সেই সব অবদান।