


সংবাদদাতা, বারুইপুর: মথুরাপুর ২ নম্বর ব্লকে এপ্রিল থেকে জুন মাসে ১৪২ জন কিশোরী গর্ভবতী হিসেবে রায়দিঘি গ্রামীণ হাসপাতালে রেজিস্ট্রেশন করিয়েছে। এই তথ্য উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রায়দিঘির বিধায়ক ডাঃ অলোক জলদাতা। বুধবার মথুরাপুর পূর্ব চক্রের রায়দিঘি শ্রীফলতলা চন্দ্রকান্ত হাই স্কুলে ‘বাল্যবিবাহ রোধে কন্যাশ্রী’ নামে এক সচেতনতামূলক শিবিরে এসে এই তথ্য তুলে ধরেন বিধায়ক। পাশাপাশি, মথুরাপুর পূর্ব চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক অর্পিতা দেও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পুলিস ও ব্লকের স্বাস্থ্যবিভাগের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, মথুরাপুর ২ নম্বর ব্লকে ছাত্রীরা ১৮ বছরের আগেই বিয়ে করে স্কুলবিমুখ হয়ে পড়ছে। শুধু তাই নয়, ২০ বছরের আগেই তাঁরা মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতির মধ্যেও পড়ছেন। এজন্য প্রতি স্কুলে আবশ্যিকভাবে সচেতনতা শিবির দরকার। এদিনের অনুষ্ঠানে ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারপার্সন সোমা দাস সহ স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। প্রসঙ্গত, রায়দিঘির অনেক এলাকাতেই বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটছে বলে সূত্রের খবর। এর জেরে স্বয়ং বিধায়ক নিজে বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে সচেতনতার পাঠ দিচ্ছেন। কিন্তু এনিয়ে মথুরাপুর ২ ব্লক প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিন বিধায়ক বলেন, ডায়মন্ডহারবার স্বাস্থ্য জেলার কিশোরী গর্ভবতী ১২ শতাংশ। মথুরাপুর ২ নম্বর ব্লকে এপ্রিল থেকে জুন মাসে ১৪২ জন কিশোরী গর্ভবতী হয়েছে। এরা সবাই কি পালিয়ে বিয়ে করেছে? তা নয়, অনেক গরিব পরিবার মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিয়েছে এলাকার ও পরিবারের লোকজনের চাপে। কিন্তু সেই কিশোরীর শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে। ছাত্রীদের এই ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। ১৮ বছরের নিচে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে প্রশাসনকে জানাতে হবে।