Bartaman Logo
২৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মধ্যরাতে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ ১৪ বাঙালিকে, ফের ডবল ইঞ্জিন, বাংলা বলায় ওড়িশার সাত দশকের বাসিন্দারাও টার্গেট

ফের ডবল ইঞ্জিন রাজ্য ওড়িশা! বাংলা ভাষায় কথা বলায় এবার প্রাণনাশ, দৈহিক অত্যাচার, ভাঙচুর কিংবা হেনস্তা নয়! ‘বাংলাদেশি তকমা’ সেঁটে একটা গোটা পরিবারকে ‘পুশব্যাক’।

মধ্যরাতে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ ১৪ বাঙালিকে, ফের ডবল ইঞ্জিন, বাংলা বলায় ওড়িশার সাত দশকের বাসিন্দারাও টার্গেট
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের ডবল ইঞ্জিন রাজ্য ওড়িশা! বাংলা ভাষায় কথা বলায় এবার প্রাণনাশ, দৈহিক অত্যাচার, ভাঙচুর কিংবা হেনস্তা নয়! ‘বাংলাদেশি তকমা’ সেঁটে একটা গোটা পরিবারকে ‘পুশব্যাক’। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার মৌসুনি গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সময়ের বাসিন্দা এই পরিবারের পূর্বপুরুষরা জীবিকার সন্ধানে ওড়িশায় চলে গিয়েছিলেন। ৬০-৭০ বছর ধরে ‘স্থায়ী’ বাসিন্দা হিসাবে ওড়িশায় থাকা ওই বাঙালি পরিবারের প্রবীণ কর্তা শেখ জব্বর সহ ১৪ জন সদস্যকে গত ২৫ ডিসেম্বর নদীয়ার গেদে সীমান্ত দিয়ে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে বিএসএফ। ঠিক যেন বীরভূমের সোনালি বিবি কিংবা অসমের নলপুরের সাকিনা বিবির ঘটনার পুনরাবৃত্তি। 

Advertisement

গত নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে ওড়িশার জগৎসিংপুর জেলার এরসামা থানার অম্বিকা গ্রামের বাসিন্দা ওই পরিবারকে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে পাকড়াও করে পুলিশ। আধার, ভোটার, প্যান, ওড়িশা প্রশাসনের দেওয়া জন্ম শংসাপত্র, এমনকি ৭০ বছর আগের নামখানা ব্লকের জমির দলিল দেখানো সত্ত্বেও নিস্তার মেলেনি সংখ্যালঘু ওই পরিবারের। দু’দফায় প্রায় দেড়মাস জেল খাটিয়ে প্রবল শীতের রাতে দুগ্ধপোষ্য, মহিলা, শিশু ও নবতিপর বৃদ্ধা সহ গোটা পরিবারকে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করা হয়। তার আগে কেড়ে নেওয়া হয় তাঁদের আধার ও ভোটার কার্ড। ২৬ ডিসেম্বর সকালে তাঁদের পাকড়াও করে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডস (বিজিবি)। যদিও বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই ১৪ জন যে ভারতীয় তা নিশ্চিত হওয়ার পর ২৮ ডিসেম্বর কুষ্ঠিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত পার করিয়ে তাঁদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেছে বিজিবি। যদিও বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই পরিবারের কোনও সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি আত্মীয়-স্বজনরা।  
এদিকে, ওড়িশায় লাগাতার বাঙালি হেনস্তা এবং বাংলাদেশি তকমা সেঁটে পুশব্যাক করার বিষয়টি জানিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে গত ৩ জানুয়ারি চিঠি লিখেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ স্তরের দৃষ্টি আকর্ষণের অনুরোধও জানান শুভঙ্করবাবু। বাঙালি হেনস্তার এই ঘটনায় চিঠি দেওয়া হয়েছে ওড়িশা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভক্তচরণ দাসকেও। এদিন শুভঙ্করবাবু বলেন, ‘কী কেন্দ্র, কী ওড়িশা সরকার... কারও কোনও হেলদোল নেই! পুশব্যাক করা ওই বঙ্গভাষীরা এখন কোথায়, তার কোনও খোঁজ নেই। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছি।’ বঙ্গভাষী ভারতীয় পরিযায়ী শ্রমিক সোনালি বিবিকে বাংলাদেশ থেকে ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম। ভারতীয় বাঙালি পরিবারকে পুশব্যাকের বিষয়ে সামিরুল সাহেব বলেন, ‘এখন পরিবারটি কোথায় জানা যাচ্ছে না। দাবি করা হচ্ছে, বিজিবি ফেরত পাঠিয়েছে। কিন্তু সেটা তো বলবে বিএসএফ! তারাও তো কিছু জানাচ্ছে না।’ শেখ জব্বরের পরিবারকে ঘিরে উদ্বেগ বেড়েছে মৌসুনি পঞ্চায়েত এলাকায় থাকা তাঁদের আত্মীয়-স্বজনেরও। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ