লখনউ: সাধু সেজে সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুধু আর্থিক প্রতারণাই নয়। তার সঙ্গে তরুণীদের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে অচৈতন্য করে যৌনাচার। উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে প্রতারণা চক্রের তদন্তে নেমে এমনটাই জানতে পারছে পুলিস। ইতিমধ্যেই অপহরণ ও প্রতারণার অভিযোগে ১৪ জন ভুয়ো সাধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁদের ফোন যাচাইয়ের পর তদন্তকারীদের চক্ষু চড়কগাছ। জানা গিয়েছে, সেই ফোনগুলি থেকে অন্তত ২০০টি অশ্লীল ভিডিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, সেই ভিডিওগুলি পর্ণ সাইটে বিক্রি করে টাকা রোজগারের ফাঁদ পেতেছিল ওই চক্র।
গত ২১ মার্চ এক যুবককে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগে পুলিস তদন্ত শুরু করে। গোটা রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে ধাপে ধাপে ১৪ জন ভুয়ো সাধুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ২৮ মার্চ সেইসব অভিযুক্তদের মোবাইল খতিয়ে দেখা যায়, সেগুলির বেশ কয়েরটিতে অশ্লীল ভিডিও রয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, বেশিরভাগ মোবাইলেরই মেমরি ক্লিন করে দেওয়া হয়েছে। নাহলে সেই ভিডিওর সংখ্যা আরও বাড়ত।
কী করতো এই চক্র? পুলিস জানিয়েছে, ভুয়ো সাধু সেজে দরিদ্র পরিবারের কাছে তারা ভাগ্য ফেরানোর টোপ দিত। বলা হতো, তন্ত্রসাধনা করলে তাঁদের পরিবারে অনটন মিটবে। আর তার জন্য দরকার বাড়ির তরুণী ও যুবতীদের। জানা যাচ্ছে, নির্দিষ্ট দিনে সেই সব তরুণী ও যুবতীদের একলা ঘরে ডেকে প্রথমে গোপনাঙ্গ পুজো করা হতো। তারপর ওইসব প্রতারকরা কী করত, তা নির্যাতিতাদের কেউই বলতে পারেননি। পুলিস মনে করছে, এই টোপ দিয়েই মহিলাদের কোনওভাবে অচৈতন্য করে তারপর তাঁদের সঙ্গে যৌনাচারে লিপ্ত হতো প্রতারকরা। তারপর সেইসব ভিডিওই পর্ণ সাইটে বিক্রি করা হতো। পুলিস সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই জানান, তদন্ত চলছে।