Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডোমিসাইলের জন্য শহরেই এক মাসে ১৩ হাজার আবেদন, হিমশিম প্রশাসন, ইস্যু মাত্র ৩ হাজার

এসআইআর পর্বে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট সংগ্রহের হিড়িক পড়েছে। কলকাতা পুরসভার কেন্দ্রীয় ভবনেই এই সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। সেই আবেদনগুলি নিয়মিত পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে কলকাতা কালেক্টরেটের অফিসে।

ডোমিসাইলের জন্য শহরেই এক মাসে ১৩ হাজার আবেদন, হিমশিম প্রশাসন, ইস্যু মাত্র ৩ হাজার
  • ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআর পর্বে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট সংগ্রহের হিড়িক পড়েছে। কলকাতা পুরসভার কেন্দ্রীয় ভবনেই এই সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। সেই আবেদনগুলি নিয়মিত পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে কলকাতা কালেক্টরেটের অফিসে। সেই সঙ্গে অনেকে ভাবছেন পুরসভার দেওয়া ‘পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট’ থাকলে ডোমিসাইল পেতে সুবিধা হবে। তাই এই শংসাপত্র নিতেও আবেদন আসছে ভূরি ভূরি। পুরসভা সূত্রে খবর, গত এক মাসে প্রায় ১৩ হাজার ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু ইস্যু করা গিয়েছে মাত্র তিন হাজার। এই  বিপুল সংখ্যক শংসাপত্র ইস্যুর চাপ সামলাতে কার্যত খাবি খাচ্ছে প্রশাসন।

Advertisement

কলকাতা কালেক্টরেট সূত্রে খবর, এসআইআর পর্বে গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন আসা শুরু হয়েছে। এই সার্টিফিকেট পেতে কোথায় আবেদন করতে হবে, কী কী নথিপত্র লাগবে, তা জানিয়ে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের তরফে কাউন্সিলারদের একটি বার্তাও পাঠানো হয়। ফিরহাদ হাকিম ঘোষণা করেন, ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করা যাবে পুরসভাতেই। এতদিন পর্যন্ত রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট সহ শিক্ষা এবং চাকরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অন্যান্য শংসাপত্র টাউন হল থেকে দেওয়া হতো। বর্তমান পরিস্থিতিতে আম জনতার সুবিধার কথা মাথায় রেখে ধর্মতলায় পুরসভার কেন্দ্রীয় ভবনে কাউন্টার খোলা হয়েছে। সেখানেই করা যাচ্ছে ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের আবেদন। এছাড়াও পুরসভার বরো অফিস এবং বাংলা সহায়তা কেন্দ্রে এই সার্টিফিকেটগুলির জন্য আবেদন করা যাচ্ছে। পুরসভার এক কর্তা বলেন, ‘রেসিডেন্সিয়াল ও ডোমিসাইল সার্টিফিকেট প্রায় এক। পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট পুরসভা ইস্যু করে। আর ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ইস্যু করে কলকাতা কালেক্টরেট। এই শংসাপত্র পেতে গেলে কোনো জয়াগায় অন্তত ১৫ বছর বসবাস বাধ্যতামূলক। সেই সংক্রান্ত প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়। এসআইআরের শুনানিতে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য হওয়ায় আম জনতার সুবিধার্থে মেয়র পুরসভায় নয়া কাউন্টার খোলার ব্যবস্থা করেছেন। আমাদের এখানে আবেদন এলেই আমরা সেগুলি কালেক্টরেটে পাঠিয়ে দিচ্ছি।’

গত ২৫ জানুয়ারি পযর্ন্ত শুধু পুরসভা থেকে কলকাতা কালেক্টরেটে ১২ হাজার ৭৩৩টি আবেদন পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ইস্যু হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৭টি সার্টিফিকেট। গড়ফা এলাকার এক কাউন্সিলারের কথায়, ‘আমার ওয়ার্ড থেকে ৪০০টি আবেদন পাঠানো হয়েছে। হাতে মিলেছে মাত্র একটি সার্টিফিকেট। তাগাদা দিলেও উত্তর মিলছে না। কবে সবটা পাব, জানি না।’

পুরসভার এক কর্তা বলেন, ‘কলকাতা কালেক্টরেটে লোকবল পর্যাপ্ত নয়। ওদের পাগল পাগল অবস্থা এখন। এত কম সময়ে এত সার্টিফিকেট ইস্যু করা চাট্টিখানি কথা নয়। এখনও রোজ গড়ে তিনশোর বেশি আবেদন জমা পড়ছে। আমরা চেষ্টা করছিলাম, তিন থেকে চার দিনের মধ্যে যাতে সার্টিফিকেট ইস্যু করে দেওয়া যায়। কিন্তু পুলিশ ভেরিফিকেশনে সময় লাগছে। পুলিশের থেকে সেসব আসার পর তা ডেটাবেসে তুলতে হচ্ছে। লম্বা প্রক্রিয়া। তাই সময় লাগছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ