সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: তৃণমূলের আমলে কলেজে কলেজে কর্মী নিয়োগ নিয়ে প্রতিবাদে সোচ্চার বিরোধীরা। প্রতিবাদ উঠছে দলের ভিতরেও। প্রতিবাদে সরব সিপিএমও। কিন্তু, এবার সিপিএম আমলে মেদিনীপুর কলেজে কর্মী নিয়োগ নিয়ে সরব হল কংগ্রেস ও তৃণমূল। সেই সময়ের ঘটনার কথা তুলে ধরে তৃণমূল বলছে সিপিএমের মুখে বড় বড় কথা মানায় না। যদিও সিপিএম এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। অবশ্য এই বিষয়ে কোনও মন্তব্যই করতে চাননি তৎকালীন কলেজ অধ্যক্ষ মুকুল রায়।
জানা গিয়েছে, তখন কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি ছিলেন সিপিএম নেতা প্রয়াত হরেকৃষ্ণ সামন্ত। অভিযোগ, দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা দীপক সরকারের অঙ্গুলি হেলনেই সব চলত। তাঁর নির্দেশ ছাড়া জেলার কোথাও একটা পাতাও নড়ত না। অভিযোগ, সেই সময় কলেজে ১০৯ জন কর্মী নিয়োগ করা হয়। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সিপিএমের ক্যাডার বাহিনীকে কলেজে ঢোকানো হয়। নেতাদের আত্মীয় পরিজন থেকে শুরু অনেককেই নিয়োগ করা হয়। শুরু হয় ক্যাডারদের দাপাদাপি। তখন কলেজ কার্যত সিপিএমের পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছিল। যদিও ছাত্র সংসদ ছিল ছাত্র পরিষদের দখলে। তারা প্রতিবাদে সোচ্চার হলেই হার্মাদবাহিনীর হামলার শিকার হতে হতো। পুলিসও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করত। অভিযোগ ছাত্রপরিষদ করার ‘অপরাধে’ ওই সব কর্মীকে দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের নানাভাবে হেনস্তা করা হতো।
সেই সময়কার ছাত্র পরিষদ নেতা তথা তৃণমূল পরিচালিত মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, সিপিএম পার্টি অফিসে বসে তালিকা তৈরি করে ক্যাডার বাহিনীকে নিয়োগ করা হয়েছিল। যাদের মধ্যে অনেকে সই করতেও পারত না। কলেজকে পার্টি অফিসে পরিণত করা হয়েছিল। যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা বিচার করা হয়নি। পার্টি ক্যাডাররাই প্রাধান্য পেয়েছিল। তিনি বলেন, তখন ছাত্র পরিষদের সংসদ ছিল। আমরা প্রতিবাদে সোচ্চার হতেই হার্মাদ বাহিনী নামিয়ে পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্র পরিষদ কর্মীদের উপর হামলা করা হয়েছিল। আজ সেই সিপিএম বড় বড় কথা বলছে। নিজেদের অতীতটা ভুলে গিয়েছে। তাদের মুখে তা মানায় না। শুধু মেদিনীপুর কলেজই নয়, মহিলা কলেজ, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়েও দলের ক্যাডারদের নিয়োগ করা হয়েছিল।
সেই সময়ের ছাত্র পরিষদ নেতা তথা জেলা কংগ্রেসের কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কাজের জন্য লোক দরকার। কিন্তু, যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা থাকা উচিত। তা বিচার না করেই দলের লোকদের কলেজে কাজ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবাদ করলে নেমে এসেছিল অত্যাচার। তখন সিপিএম যা করেছিল এখন শাসক দলও তাই করছে।
অবশ্য মুকুলবাবু বলেন, এখন আমি সেদিনের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না। যা হয়েছিল ডিপিআইয়ের অনুমোদন নিয়েই হয়েছিল। সিপিএমের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য সবুজ ঘোড়াই বলেন, এতদিন পরে হঠাৎ সেদিনের কথা মনে পড়ল! গোল গোল কথা বললে তো হবে না। সেদিন যদি দুর্নীতি হয়ে থাকে তাহলে নাম দিয়ে অভিযোগ করুক।