সোমনাথ চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: বয়স শুধু সংখ্যামাত্র। এটাই প্রমাণ করে দিয়েছেন ১০৮ বছর বয়সি পদ্মশ্রী মঙ্গলাকান্ত রায়। এই বয়সেও দেড় কিমি পথ হেঁটে রোজই বাজারে আসেন। বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সঙ্গে বসে গল্পগুজব করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা সময় কাটিয়ে আবার হেঁটে বাড়ি ফেরেন। দোকান ঘুরে ঘুরে নিজে হাতে সব্জি বাছাই করে কেনেন। মাছ, মাংস খরিদ করেন। ব্যবসায়ীরাও জানান, দাদু বাজারে না এলে তাঁদের ভালো লাগে না। নিয়মিতই উনি বাজারে আসেন।
সোমবার সকালেও চারেরবাড়ি বাজারে এসেছিলেন মঙ্গলাকান্ত। বাজারে কোন সব্জির দাম কত, শোনেন। চায়ের দোকানে বসে এককাপ লাল চা খান। মঙ্গলাকান্ত রায়ের মেজ ছেলে নিমাই রায়ের চরেরবাড়ি বাজারে পানের দোকান আছে। নিমাই বলেন, বাবা এই বয়সেও প্রতিদিন বাজারে আসেন। বাজারে আসতে দেরি হলে বাড়িতে ছটফট শুরু করে দেন। ভোর ৫টায় ঘুম থেকে ওঠেন। এরপর পুজো দিয়ে চা খেয়ে নেয়। তারপর ব্যাগ হাতে নিয়ে বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ঘণ্টা তিনেক বাজারে আড্ডা মেরে বাজার করে বাড়ি যান। রোজ মাছ কিংবা খাসির মাংস পাতে লাগবেই। বাবার খুশিতেই আমরা খুশি।
সব্জি ব্যবসায়ী বিপুল মণ্ডল বলেন, দাদু বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সকলে ওঁকে তাঁর দোকানে আসতে অনুরোধ জানান। কারণ উনি খুব মজার মজার কথা বলেন। সকলের সঙ্গে মস্করা করেন। আমাদের খুব ভালো লাগে।
পদ্মশ্রী মঙ্গলাকান্ত রায় বলেন, বয়স আবার কি? আমি হেঁটেই বাজারে আসি। হেঁটেই বাড়ি যাই। অনেক সময় পরিচিত কোনও টোটোচালক দেখা হলে জোর করে টোটোয় চাপিয়ে বাড়ির গেটে নামিয়ে দেন। তবে তাঁরা টাকা নেন না। আমি হাঁটতেই পছন্দ করি। হাঁটাচলা করলে রাস্তাঘাটে অনেক লোকের সঙ্গে দেখা হয়, গল্পগুজব করা যায়। নিজের হাতে সব্জি পছন্দ করে বাজার করার মজাই আলাদা। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পদ্মশ্রী পুরস্কার পেয়েছিলেন মঙ্গলাকান্ত। প্রায় পাঁচশো বছরের পুরনো বাদ্যযন্ত্র সারিন্দা বাদক হিসেবে এই সম্মান তিনি পেয়েছিলেন।
মঙ্গলাকান্ত রায়।-নিজস্ব চিত্র