নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১ আগস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজ ফের চালু করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি চৈতালি দাসের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার পর পেরিয়ে গিয়েছে পাঁচদিন। কিন্তু কাজ চালু করার ব্যাপারে কেন্দ্রের তরফে রাজ্যকে এখনও কিছুই জানানো হয়নি। মামলাকারী পশ্চিমবঙ্গ খেতমজুর সমিতির তরফে কাজ চালু না-হওয়ার বিষয়টি মঙ্গলবার ডিভিশন বেঞ্চের নজরে আনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এই বিষয়ে শুনানি হবে বলে জানিয়েছে আদালত। তবে শুনানি নির্দিষ্টভাবে কবে হবে তা জানানো হবে আগামী সোমবার।
এদিন খেতমজুর সমিতির আইনজীবী পূর্বায়ন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, কাজ চালু না-হওয়ার বিষয়টি আদালতের সামনে ১ আগস্ট থেকে তুলে ধরা হয়েছে। রাজ্যে ১০০ দিনের কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনারের সঙ্গে তাঁরা সরাসরি কথা বলেছেন বলেও জানিয়েছেন। রাজ্যের এই পদস্থ কর্তা তাঁদের বলেছেন, কেন্দ্রের তরফে কোনও নির্দেশিকা না পাঠালে তাঁরা কাজ শুরু করতে পারবেন না। তারপরেই আগামী সপ্তাহে বিষয়টির শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হবে বলে আদালত জানিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, এই সংক্রান্ত মূল মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে আগামী ১৮ আগস্ট। তার আগে আদালতের নির্দেশ মেনে ১ আগস্ট কাজ চালু না করা নিয়ে ডিভিশন বেঞ্চ কী দিকনির্দেশ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের। আদালতের নির্দেশ মেনে কাজ চালু না করলেও ‘রাজনৈতিক কারণে’ পশ্চিমবঙ্গকে দোষারোপ জারি রেখেছে মোদি সরকার। সোমবারই কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান দাবি করেছেন, কেন্দ্রীয় দল এসে যে ১৯টি জেলায় দুর্নীতির রিপোর্ট দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ রাজ্য নেয়নি। যদিও এই অভিযোগ একেবারে ভিত্তিহীন বলেই দাবি করা হয়েছে নবান্নের তরফে।
বছরের প্রথমার্ধে মোট অনুমোদিত কাজের ৬০ শতাংশের বেশি কাজ করা যাবে না বলেও মনরেগা প্রকল্পে নয়া নিয়ম এনেছে কেন্দ্র। এতে মানুষের পর্যাপ্ত কাজ পাওয়ার অধিকার খর্ব হচ্ছে বলেও মঙ্গলবার লোকসভায় মন্তব্য করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এক প্রশ্নের জবাবে, গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী কমলেশ পাসোয়ান জানিয়েছেন, এই কাজে উন্নত আর্থিক ব্যবস্থাপনা সুনিশ্চিত করতেই ডিপার্টমেন্ট অব এক্সপেন্ডিচার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।