সংবাদদাতা, কল্যাণী: পানিহাটির পর এবার বিতর্ক শুরু হল গয়েশপুরের পুরপ্রধানকে নিয়ে। গয়েশপুর পুরসভার ১০ কাউন্সিলার দলীয় নেতৃত্বের কাছে পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, বোর্ড মিটিং না করেই পুরপ্রধান সুকান্ত চট্টোপাধ্যায় প্রায় চার কোটি টাকার কাজের বরাত একটি সংস্থাকে পাঁচ ভাগে ভাগ করে পাইয়ে দিয়েছেন।
আরও অভিযোগ, বোর্ড মিটিং ছাড়াই টেন্ডার ডেকে একের পর এক কাজ করিয়ে চলেছেন পুরপ্রধান। এমনকি ওয়ার্ক অর্ডারে কোন এলাকার কাজ তারও কোনও উল্লেখ থাকছে না। শুক্রবার কাজের অর্ডার দেখতে চেয়েছিলেন ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। তার জন্য ওই মহিলাকে হেনস্থা করেন প্রধানের অনুগামীরা। কাউন্সিলারের এক সঙ্গীকে জুতো ছুড়েও মেরেছেন প্রধানের অনুগামী। আক্রান্ত কাউন্সিলারের দাবি, ‘অবৈধ কাজ হচ্ছে।’ পুরপ্রধান যদিও দাবি করে বলেছিলেন, ‘কাজের অর্ডার আছে। নিয়ম মেনেই হচ্ছে।’ এরপর ওদিন রাতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। বুকে ব্যথা হচ্ছে বলে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা তাঁকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি। বর্তমানে রয়েছেন আইসিইউতে।
অন্যদিকে ঘটনার পরের দিন, শনিবার গয়েশপুরের ১০জন কাউন্সিলার একযোগে পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলতে থাকেন। তৃণমূল পরিচালিত গয়েশপুর পুরসভায় ১৮ জন কাউন্সিলার রয়েছেন। জানা গিয়েছে, এর আগেও পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে ১১জন কাউন্সিলার দুর্নীতি, আর্থিক তছরুপ সহ একাধিক বিষয় সামনে এনে অনাস্থা এনেছিলেন। তবে দলের নির্দেশে তা স্থগিত হয়। এদিন বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলার কৌশিক ঘোষ বলেন, ‘বোর্ড মিটিংয়ে পাস না করে কোটি কোটি টাকার টেন্ডার হচ্ছে। এটা বেআইনি কাজ। স্বৈরাচারী শাসন গয়েশপুরে চালাতে চাইছেন পুরপ্রধান। আমরা হতে দেব না। সব ঘটনা উচ্চতর নেতৃত্বকে জানিয়েছি।’ পুরপ্রধান অসুস্থ থাকায় তাঁর প্রতিক্রিয়া এদিন পাওয়া যায়নি। নিজস্ব চিত্র