মুম্বই: ফ্লাওয়ার ভাইদের নিশ্চয়ই ভোলেননি! হিথ স্ট্রিক, মারে গুডউইন কিংবা স্কুপ বিশেষজ্ঞ ডগলাস মেরিলিয়ার...। তালিকাটা বেশ লম্বা। জিম্বাবোয়ে ক্রিকেটের সোনার প্রজন্ম বললেও অত্যুক্তি হয় না। একটা সময় ক্রিকেট মাঠে জায়ান্ট কিলারের তকমা নিয়েই মাঠে নামত জিম্বাবোয়ে। তারপর শেয়ার বাজারে ধস নামার মতো কেবলই শূন্যতা। আন্তর্জাতিক মঞ্চে টর্চ জ্বেলেও জিম্বাবোয়েকে খুঁজে পাওয়া দায়। তাইবুর দেশ যে ক্রিকেট খেলে সেটাই ভুলতে বসেছিলেন অনেকে। সেই জিম্বাবোয়েই চলতি টি-২০ বিশ্বকাপের সুপার আটে পা রেখেছে। অঘটন বলা ভুল। বরং অস্ট্রেলিয়ার পর শ্রীলঙ্কাকে বশ মানানো মোটেও ফ্লুক নয়। ২২ গজে জিম্বাবোয়ের প্রত্যাবর্তন বোধহয় চলতি টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রাপ্তি। সিকান্দার রাজার মন্তব্য, ‘আন্ডারডগ হিসাবে মাঠে নামা আলাদা মজার। কেউ ধর্তব্যে আনতেই চায় না। যাই হোক, গোটা দল সম্মান আদায় করে নিয়েছে। জিম্বাবোয়ে ক্রিকেটের জন্য গর্বের সময়।’
সুপার এইটে ভারতের গ্রুপেই রয়েছে জিম্বাবোয়ে। বাকি দুই দল দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগামী সোমবার মুম্বইতে এই ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে নামবনি সিকান্দার রাজারা। গ্রুপ লিগের পর জিম্বাবোয়েকে হেলাফেলার দিন শেষ। বরং আরও একটা সারপ্রাইজ দিতে তৈরি তারা। আইপিএল খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে সিকান্দার রাজার। তিনিই দলের সবচেয়ে বড় তারকা। ব্রায়ান বেনেট, রায়ান বুরি, ব্র্যাড ইভান্সরা কেউকেটা নন। হয়তো তাদের নিয়ে হোমওয়ার্ক করার প্রয়োজনও মনে করেনি কেউ। অথচ নিখুঁত হিসাবে অংক বদলে দিচ্ছে তারা। ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন ক্রিকেটার জাস্টিন স্যামন্সকে কোচ নিয়োগ করে তোরা। ডেপুটি ডিওন ইব্রাহিম জিম্বাবোয়ের প্রাক্তন ক্রিকেটার। এরপরেই নিঃশব্দ বিপ্লবের শুরু। নাছোড় মনোভাব যাদের মূল মন্ত্র। অনেকেই ভেবেছিলেন বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। পারফরম্যান্স দিয়ে সমালোচকদের চুপ করাতে পেরেছে জিম্বাবোয়ে। সুপার এইটেও হেভিওয়েট প্রতিপক্ষকে চমকে দিতে তৈরি সিকান্দার রাজার দল।