নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: গ্রামীণ হুগলিতে রাস্তাঘাট বেহাল। তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। এই ক্ষোভ কমাতেই এবার রাস্তা তৈরি ও সংস্কারের উদ্যোগ নিল হুগলি জেলা পরিষদ। জেলার সমস্ত গ্রামীণ জনপ্রতিনিধির কাছে ভাঙাচোরা রাস্তার তালিকা চেয়েছে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই জনপ্রতিনিধিরা সেই তালিকা জমা করতে শুরু করেছেন বলে জানা গিয়েছে। জেলা পরিষদের প্রতিনিধি থেকে নবনির্বাচিত বিধায়করাও তালিকা জমা দিয়েছেন। রাজ্য সরকার যাতে টাকা অনুমোদন করে তার জন্য ইতিমধ্যেই সেইসব রাস্তার তথ্য সরকারি পোর্টালে তোলার কাজ শুরু করেছে জেলা পরিষদ। তবে রাস্তা সংস্কারের টাকা কবে বরাদ্দ হবে, কাজই বা হবে কবে, তার স্পষ্ট উত্তর জেলা পরিষদের তরফে মেলেনি।
হুগলি জেলা পরিষদের শিক্ষা-কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, জেলাজুড়ে গ্রামীণ রাস্তা সংস্কার ও তৈরির কাজ শুরু হবে। সেই মর্মে পরিকল্পনা করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের কাজের তালিকা দিতে বলা হয়েছে। আশা করছি, সরকার ও জেলা পরিষদের উদ্যোগে দ্রুত কাজে নামা সম্ভব হবে। জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি ব্লক, বিধানসভা ধরে রাস্তার কাজের প্রস্তাব চাওয়া হয়েছিল। সেই মোতাবেক কিছু প্রস্তাব জমা পড়েছে। সেগুলিকে পদ্ধতিগতভাবে সরকারের কাছে পাঠানোর কাজ চলছে। সবুজ সংকেত পেলেই কাজ শুরু হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পরিষদের এক সদস্য বলেন, এখানেই সমস্যা। রাজ্য অর্থ কমিশন, কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশন বা সরকারি বরাদ্দ, কোন খাত থেকে রাস্তা নির্মাণের কাজ করা হবে, তা স্পষ্ট নয়। অতীতে, সরকারি অনুমোদনের জন্য অপেক্ষার মাঝে অন্য কাজগুলি সেরে রাখা হত। এবার সে পথে হাঁটছে না প্রশাসন। তবে স্থানীয় স্তরে তৎপরতা থাকলেও বাস্তবে কী হবে, বলা কঠিন। বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, মাত্র কয়েক মাসেই আমাদের সরকার উন্নয়ন, জনতার দাবিকে মান্যতা দেওয়ার কাজে রেকর্ড গড়েছে। গ্রামীণ উন্নয়ন তো বটেই, নাগরিকদের সার্বিক উন্নয়নকেও প্রাধান্য দিয়েছে সরকার। ফলে বিজেপির প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও ভরসা অটুট রয়েছে। সিপিএম নেতা তথা চণ্ডীতলার একটি পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা আসিফ আলি শেখ বলেন, নির্বাচনের জন্য কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিল। তারপর বর্ষার মুখে রাস্তা সংস্কারের কাজ হয়নি। এখনও শুধুই প্রস্তাব নেওয়ার কাজ চলছে। অথচ বেহাল রাস্তার কারণে গ্রামীণ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতে রাস্তা নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। উত্তরপাড়ার নবগ্রামে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন বিজেপি বিধায়ক নিজেও। এই পরিস্থিতিতে নাগরিকরা শুধু উদ্যোগ নয়, পরিকল্পনার বাস্তবায়ন চাইছেন।