Bartaman Logo
১৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিমানবন্দরে যাত্রী সুরক্ষা কমিটির বৈঠকে গিয়ে গেরুয়া হেনস্তার শিকার সৌগত রায়

ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়লেন দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর গাড়ি ঘিরে চড়াও হয় একদল লোক।

বিমানবন্দরে যাত্রী সুরক্ষা কমিটির বৈঠকে  গিয়ে গেরুয়া হেনস্তার শিকার সৌগত রায়
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়লেন দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর গাড়ি ঘিরে চড়াও হয় একদল লোক। সৌগতর উদ্দেশে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। এমনকি দেখানো হয় কালো পতাকা। যদিও বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত জানিয়ে দেন, বিজেপি কর্মীরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিল তা সফল হবে না। আমি কোনোভাবেই বিমানবন্দর যাত্রী সুরক্ষা সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান পদ ছাড়ব না।

Advertisement

মঙ্গলবার এয়ারপোর্ট অ্যাডভাইজারি কমিটির বৈঠক ছিল। সৌগত দীর্ঘদিন যাবৎ এই কমিটির চেয়ারম্যান। যাত্রী সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্য, বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণসহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয় এই কমিটি। অভিযোগ, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে বিজেপির একটি অংশ পদটি থেকে সৌগতকে সরাতে মরিয়া। এদিন কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে সৌগত বিমানবন্দরের প্রশাসনিক বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করেন। তখনই মতলববাজরা তাঁর গাড়ি আটকায়। তৃণমূল এমপির গাড়ির উপর চড়চাপড় মারতে থাকে। স্লোগান দেওয়া হয় সৌজন্যের সীমা ছাড়িয়েই। বিক্ষোভকারীরা পরিষ্কার দাবি করে, যাত্রী সুরক্ষা কমিটির পদ ছাড়ুন সৌগত। বিক্ষোভ দ্রুত বন্ধ না-হওয়ায় এয়ারপোর্ট ডিরেক্টরের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন। তারপর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দিয়েই সৌগত বৈঠকে যোগ দিতে যান। 
সৌগতর অভিযোগ, বিক্ষোভ প্রদর্শনকারী সকলেই বিজেপি কর্মী। সরকারি বৈঠক ঘিরে তাদের এই পরিকল্পিত হাঙ্গামার নিন্দার ভাষা নেই। বৈঠকে দুজন বিজেপির বিধায়কও ছিলেন। ওঁরা চান চেয়ারম্যান পদটি আমি ছেড়ে দিই। কিন্তু আমার ইস্তফা দেওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই। সৌগতর আরও অভিযোগ, বৈঠকের মধ্যেও চাপ সৃষ্টি করা হয়, যাতে কোনো কথা বলতে না পারি। শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারীকে বিষয়টি জানাব। 
সৌগত যাতে পদ ছেড়ে দেন, সেই বক্তব্য বিজেপি বিধায়কদের মুখেও। দমদমের বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সি বলেন, বাংলার মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ‌্যান করেছে। দমদমের সার্বিক উন্নয়নে সৌগত রায়ের কোনো ভূমিকা নেই। এয়ারপোর্টের পদটি তাঁর ছেড়ে দেওয়াই উচিত। দমদম উত্তরের বিধায়ক সৌরভ সিকদারের মুখেও প্রায় একই সুর। তিনি বলেন, আমরা সকলেই ভেবেছিলাম, কেউ হয়তো আজই ইস্তফা দেবেন। কেউ চুরি করে থাকলে, ‘চোর’ স্লোগান শুনবেনই। জনরোষ স্বাভাবিক, লোক তো আর পুজো করবে না!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ