Bartaman Logo
২০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাল জেলা পরিষদে তলবি সভা, কাজলের ইস্তফা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

আগামি কাল, শুক্রবার বীরভূম জেলাপরিষদে অনাস্থার তলবি সভা। তার আগেই কি ইস্তফা দেবেন সভাধিপতি কাজল শেখ?

কাল জেলা পরিষদে তলবি সভা, কাজলের ইস্তফা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে
  • ২০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: আগামি কাল, শুক্রবার বীরভূম জেলাপরিষদে অনাস্থার তলবি সভা। তার আগেই কি ইস্তফা দেবেন সভাধিপতি কাজল শেখ? এই প্রশ্ন ঘিরেই জেলার রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। কাজল শেখ সরাসরি কিছু খোলসা না করলেও তাঁর কথায় প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত রয়েছে। তাঁর দাবি, ‘আমারও আর পদে থাকার খুব একটা ইচ্ছে নেই। কাজ করার পরিবেশও নেই। অনাস্থার তলবি সভার দিনে আমার থাকার কোনো প্রশ্নই নেই।’ তাহলে কি সভার আগেই ইস্তফা দিচ্ছেন? কাজলের জবাব, ‘দেখি। এব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিইনি।’ সভাধিপতির ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, অপসারিত হওয়ার চেয়ে সসম্মানে সরে যাওয়াই রাজনৈতিকভাবে শ্রেয় বলে মনে করছেন কাজল।

Advertisement

এবার বিধানসভা নির্বাচনে হাসন কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন কাজল। তিনি নিজে জয়ী হলেও রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারপর থেকে একদিনের জন্যও বীরভূম জেলা পরিষদের চৌকাঠ পার হননি কাজল। দেখা মেলেনি তাঁর অনুগামী কর্মাধ্যক্ষদেরও। রাজনৈতিক মহলের দাবি, বিজেপি অশান্তি পাকাতে পারে আশঙ্কায় কাজল জেলা পরিষদে আসেননি। বিরোধীদের দাবি অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের মতে, নিজে বাঁচতে ও পদ সুরক্ষিত রাখতে অনেক চেষ্টা করেছেন কাজল। সেই উদ্দেশ্যেই নতুন তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। তাতেও তিনি পদ বাঁচাতে পারলেন না। 
সভাধিপতির অনুপস্থিতির জেরে জেলার গ্রামীণ উন্নয়নের চাকা স্তব্ধ হয়ে রয়েছে। এই যুক্তিতেই গত ৪আগস্ট সভাধিপতির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন জেলা পরিষদের ১৯জন সদস্য। তাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন খয়রাশোলের তৃণমূল নেতা নবগোপাল বাউরি। সূত্রের খবর, ১৯জন সই করলেও পরে সদস্যদের নিয়ে গোপন বৈঠক হয়। সেখানে অনাস্থার পক্ষে থাকা সদস্যদের আলাদা করে সই সংগ্রহ করা হয়। বিক্ষুব্ধদের দাবি, অনাস্থার পক্ষে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪৪জন সদস্য সই করেছেন। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজলের অপসারণের জন্য তলবি সভায় প্রয়োজন অন্তত ২৭ জনের সমর্থন। নবগোপালের দাবি, ‘তাঁদের সঙ্গে অন্তত ৪৪-৪৫জন সদস্য রয়েছেন। ফলে কাজলের অপসারণ নিশ্চিত। জেলা পরিষদের উন্নয়নের চাকা সচল রাখার জন্য তাঁর অপসারণ অত্যন্ত জরুরি।’
এই পরিস্থিতিতে শুক্রবারের তলবি সভা উপলক্ষ্যে সবরকম প্রস্তুতি সেরে রেখেছে জেলা পরিষদ। নিয়ম অনুযায়ী, সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত না হলে ব্যালটের মাধ্যমে গোপন ভোটগ্রহণ হবে। সবই আয়োজন করে রেখেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার জেলা পরিষদ পরিদর্শন করেছেন জেলাশাসক ধবল জৈন, জেলার পুলিশ সুপার বিদিত রাজ বুন্দেশ সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। প্রশাসনের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘তলবি সভার আয়োজনে সবরকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’ যদিও ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, তার আগেই কাজল ইস্তফা দিলে তলবি সভার কোনো অর্থই থাকবে না। 
বিজেপির জেলা সহ সভাপতি দীপক দাস বলেন, তলবি সভার আগে নিজে থেকে ইস্তফা দিলে অন্তত মান-সম্মানটুকু বাঁচবে। সহকর্মীদের দ্বারা বিতাড়িত হওয়ার কলঙ্কের চেয়ে নিজে পদত্যাগ করা অনেক বেশি সম্মানের। এতে অন্তত ভবিষ্যতে উনি নিজের কেন্দ্র হাসন বিধানসভার উন্নয়নে মনোযোগ দিতে পারবেন। কাজলও জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি হাসনের উন্নয়নেই মন দিতে চান।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ