নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারে এসেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতি, তোলাবাজি, গুন্ডাগিরিতে ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তা দিয়েছিলেন। আশায় বুক বেঁধেছিল বঙ্গবাসী। কিন্তু নয়া সরকারের বয়স তিন মাস হতে না হতেই কি জনগণের সেই আশা দুরাশায় পরিণত হচ্ছে? ‘জিরো টলারেন্স’ কি তবে শুধু কথার কথা? যত দিন যাচ্ছে, এসব প্রশ্ন ততই জোরালো হচ্ছে। সোমবার জানা গিয়েছিল, পূর্ব যাদবপুর থানায় রীতিমতো ‘খাপ পঞ্চায়েত’ বসিয়ে এক যুবককে ‘শিক্ষা’ দিয়েছেন বিজেপির বুথ সভাপতি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে আর এক বিজেপি নেতার ‘গুন্ডাগিরি’!
বালিগঞ্জের পার্ক রোডে এক নামী মিষ্টির দোকানের ক্যাশ কাউন্টারে ঢুকে ওই বিজেপি নেতা ও তাঁর সঙ্গী ম্যানেজারকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। গোটা ঘটনা সিসি ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে। ম্যানেজারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করেছে কড়েয়া থানা। তারপরও পুলিশ বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে দাবি অভিযোগকারীর।
১৪ আগস্ট রাত ১০টা নাগাদ মিষ্টির দোকানে আসেন দু’জন। দোকানের ম্যানেজার যশ লাঠির দাবি, ‘ওই কাস্টমাররা গুলাবজামুন ও বরফি চান। কিছুটা খাওয়ার পর তাঁরা বলেন, মিষ্টি থেকে গন্ধ ছাড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে ওই মিষ্টি ফেলে দিতে বলি ওঁদের। তারপর আমি বলি, নতুন মিষ্টি দিচ্ছি। বাড়তি কোনো টাকা দিতে হবে না।’ যশের অভিযোগ, এরপরই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন দু’জন। একজন নিজেকে বিবেক ত্রিপাঠি পরিচয় দিয়ে জানান, তিনি বিজেপির স্থানীয় মণ্ডলের যুব সভাপতি। বন্দর এলাকার দাপুটে এক বিজেপি নেতার সঙ্গে তাঁর নিত্য ওঠাবসা। দাউদ নামে যুবকের সেই সঙ্গীও নিজেকে বিজেপি কর্মী বলে পরিচয় দেন। তাঁরা দু’জন প্রথমে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ দিতে থাকেন। তাঁদের ভদ্রভাবে কথা বলার অনুরোধ করতেই তাঁরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ক্যাশ কাউন্টারে ঢুকে তাঁর গলা টিপে ধরেন। দোকানে থাকা অন্য কর্মীদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। প্রায় আধঘণ্টা ধরে চলে এই ‘গুন্ডাগিরি’। তাঁরা চলে গেলে যশ কড়েয়া থানায় যান। তাঁর দাবি, ডিউটিতে থাকা অফিসাররা বিষয়টি ‘মিটমাট’ করে নিতে বলেন। কিন্তু তিনি অনড় থাকায় লিখিত অভিযোগ নিতে বাধ্য হয় পুলিশ। এর ভিত্তিতে মারধর, জোর করে আটকে রাখা, ভয় দেখানোসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে থানা। তবে পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা পলাতক। এ বিষয়ে বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা অনভিপ্রেত। তবে দক্ষিণ কলকাতায় আমাদের মণ্ডল সভাপতি, যুব সভাপতি বা কোনো কমিটি তৈরিই হয়নি। কে নিজেকে যুব সভপিতি বলছেন, সেটা তাঁর দায়িত্ব। এর সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই।’