Bartaman Logo
৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নারী সুরক্ষায় জিরো টলারেন্স, সিদ্ধান্ত নিতে পুলিশকে ফ্রি-হ্যান্ড মুখ্যমন্ত্রীর

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন নারী সুরক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি। নতুন পুলিশি পরিষেবা ও সাইবার হেল্পডেস্ক চালু। বিস্তারিত পড়ুন।

নারী সুরক্ষায় জিরো টলারেন্স, সিদ্ধান্ত নিতে পুলিশকে ফ্রি-হ্যান্ড মুখ্যমন্ত্রীর
  • ৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্ষমতা এসেই পুলিশ-প্রশাসন নিয়ে অত্যন্ত তৎপর বিজেপি সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গুরুতর অভিযোগ গ্রহণ, সেই অনুসারে সংশ্লিষ্ট ধারায় এফআইআর করে তদন্ত চালানোর জন্য পুলিশকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে নতুন সরকারের একাধিক নয়া পুলিশি পরিষেবার উদ্বোধন করেন তিনি। একইসঙ্গে, পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ না-করার বিষয়টিও উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক করে দেন পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যে, গুরুত্ব পেয়ে উঠে এসেছে রাজ্যের নারী নিরাপত্তা ও সাইবার অপরাধদমন নীতি। এদিন নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘নারী সুরক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছি আমরা। প্রতিটি থানায় নারী সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে।’ অন্যদিকে, সাইবার অপরাধ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর শঙ্কার বার্তা— ‘সাইবার ক্রাইম মহামারির আকার ধারণ করেছে।’ প্রতারণা রুখতে ও প্রতারিত টাকা ফেরতে প্রতিটি থানায় সাইবার ক্রাইম হেল্পডেস্ক তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। 

Advertisement

এদিনের অনুষ্ঠান থেকে সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় একাধিক নতুন পুলিশি পরিষেবা চালু করা হয়। নারী সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দুটি নতুন নিরাপত্তা পরিষেবা চালু হয়। প্রতিটি থানায় সাইবার হেল্পডেস্কের পাশাপাশি ‘দুর্গা স্কোয়াড’-এর উদ্বোধন করা হয়। বুলেট-৩৫০ চড়ে টহল দেবেন ২১৩জন উর্দিধারী ‘দুর্গা’। রাস্তায় মহিলারা কোনো বিপদে পড়লেই দুর্গা স্কোয়াডের সহায়তা মিলবে। থানায় মহিলা সহায়তা কেন্দ্র তৈরি প্রসঙ্গে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মহিলা হেল্পডেস্ক এত দ্রুততার সঙ্গে রাজ্যের পুলিশের ডিজি স্তরের তত্ত্বাবধানে আমরা আজ শুরু করতে পারব, এটা আমার ধারণায় ছিল না। আমাদের বর্তমান সরকারের যে-সমস্ত জিনিস অগ্রাধিকারের জায়গায় রয়েছে, তার মধ্যে এক নম্বরে রয়েছে নারী সুরক্ষা এবং কন্যাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদান করা।’ অন্যদিকে, ‘মহামারি’ সাইবার অপরাধদমনে অভিযোগ দায়েরের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যত তাড়াতাড়ি অভিযোগ হয়, জালিয়াতির টাকা তত তাড়াতাড়ি ফ্রিজ করানো সম্ভব। থানার সাইবার হেল্পডেস্কগুলি এটা নিশ্চিত করবে। অভিযোগ করার সঙ্গে সঙ্গেই তা ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (এনসিআরপি) এবং ১৯৩০ হেল্পলাইনের মাধ্যমে দ্রুত নথিভুক্ত করা যায়।
এদিন পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটা কথাই বলব, কোনো অভিযোগ লুকোবেন না। নথিভুক্ত করে এফআইআর করুন। ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তর বিশেষ করে মহিলা সংক্রান্ত, শিশু সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে সব তথ্য চায়। পূর্বতন সরকার তা পাঠায়নি। আমরা যেন একটি সংখ্যাও কম না-পাঠাই। কারণ আমরা যদি জানতে পারি আমাদের রাজ্যে কোন ধরনের ব্যাধিতে আমরা আক্রান্ত হচ্ছি, কোন ধরনের ব্যাধি বেশি করে হচ্ছে, তাহলে আমরা সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। সেই ব্যাধিকে আড়াল করলে ব্যাধি বাড়বে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ