নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তিলজলায় বাড়ি ভাঙার ঘটনায় হাইকোর্টে ধাক্কা খেয়েছে সরকার। কলকাতা পুরসভা তিলজলা-তপসিয়ায় তড়িঘড়ি নোটিস দিয়ে বাড়ি খালি করতে বলেছিল। বাড়ি ভাঙার কাজে হাত লাগায় পুরসভা। কিন্তু বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নোটিসের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, কলকাতা পুরসভা চাইলেই হুট করে কোনো নির্মাণ, সেটা বেআইনি হলেও, ভেঙে ফেলতে পারবে না। ভাঙার আগে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া মেনে পদক্ষেপ করতে হবে। সূত্রের খবর, এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নোটিস দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন নিয়ম মানা হয়নি, সেই প্রশ্নে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ডিজি উজ্জ্বল সরকারকে মৃদু ভর্ৎসনাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, আর যেন বেআইনি নির্মাণকে প্রশ্রয় না দেওয়া হয় এবং আইন মেনে সঠিক সময়ে নোটিস দেওয়া হয়, তা নিয়ে সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সম্প্রতি নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের সমস্ত কাউন্সিলার এবং পুরসভার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়ে ৯ নম্বর বরো অফিসে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে বৈঠক। সেখানে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার ক্ষেত্রে হাইকোর্টের নির্দেশের প্রসঙ্গ উঠে আসে। জানা যায়, এই ধরনের ক্ষেত্রে অন্তত সাত দিনের নোটিস দিতে হয়। সেই নিয়ম মানা হয়নি। সূত্রের খবর, মাত্র দু’দিনের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। সেই কারণেই আদালতে ধাক্কা খেতে হয়েছে সরকারকে। বিষয়টি জানতে পেরে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ডিজির কাছে জবাবদিহি চান মুখ্যমন্ত্রী। কেন নিয়ম মানা হয়নি, অসন্তোষ প্রকাশও করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, তপসিয়ার একটি বহুতলের দোতলায় চামড়ার কারখানায় আগুন লেগেছিল। সেই ঘটনায় পুড়ে মৃত্যু হয় দু’জনের। তারপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তিলজলার ওই বহুতল বেআইনিভাবে নির্মিত। কোনো বিল্ডিং প্ল্যান নেই এবং সেখানে অবৈধ ভাবে কারখানা চলছিল। বহুতল ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন তিনি। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিলজলায় বুলডোজ়ার পৌঁছে যায় এবং বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হয়। তখন ওই বহুতলের বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে। বাড়ির বেশ কিছু অংশ ভাঙার প্রক্রিয়া সম্পন্নও হয়ে যায়। ইতিমধ্যে এনিয়ে হাইকোর্টে মামলাও হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছে।