Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ছয় বিধানসভায় নতুন ভোটার শূন্য, উত্তর ২৪ পরগনার চূড়ান্ত তালিকায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন অর্থাৎ এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

ছয় বিধানসভায় নতুন ভোটার শূন্য, উত্তর ২৪ পরগনার চূড়ান্ত তালিকায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
  • ১১ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন অর্থাৎ এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকা খতিয়ে দেখতেই সামনে এসেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার এক তাৎপর্যপূর্ণ এবং উদ্বেগজনক চিত্র। জেলার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে নতুন ভোটারের সংখ্যা একেবারে শূন্য। জানা গিয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়। তার আগে প্রায় দু’মাস সময় ছিল নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার জন্য। এই সময়ের মধ্যে প্রথমবার ভোটার হিসাবে নাম তোলার জন্য ‘ফর্ম-৬’ পূরণ করে আবেদন করার সুযোগ ছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, উত্তর ২৪ পরগনার বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে সেই সুযোগ কার্যত কেউই নেননি। জেলার বাদুড়িয়া, হাবড়া, নৈহাটি, নোয়াপাড়া, দমদম এবং বসিরহাট উত্তর— এই ছ’টি বিধানসভা কেন্দ্রে নতুন ভোটারের আবেদন সংখ্যা শূন্য। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ওই কেন্দ্রগুলিতে একজনও নতুন ভোটার হিসাবে নাম নথিভুক্ত করার আবেদন করেননি। তবে এখনও ৬ নম্বর ফর্ম জমা নেওয়ার কাজ চলছে।  

Advertisement

জেলার গাইঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রেও নতুন ভোটারের সংখ্যা কার্যত নেই বললেই চলে— সেখানে নতুন ভোটার মাত্র একজন। তবে নতুন ভোটারের সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে বিধাননগর বিধানসভা। যেখানে নতুন ভোটার নথিভুক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৩৯৮ জন। তারপর রয়েছে রাজারহাট নিউটাউন। এখানে নতুন ভোটারের সংখ্যা ২ হাজার ৫৪৩। অর্থাৎ একই জেলার মধ্যে কোথাও নতুন ভোটারের আবেদন নেই, কোথাও কয়েক হাজার। এই পরিসংখ্যান শুধু বৈপরীত্যই নয়, বড়ো প্রশ্নও তুলছে। সাধারণত নতুন ভোটারদের বড়ো অংশই তরুণ প্রজন্মের। সেই প্রেক্ষিতে একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে নতুন ভোটারের আবেদন শূন্য থাকা কি শুধু প্রশাসনিক বা প্রক্রিয়াগত সমস্যা, নাকি এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে বৃহত্তর সামাজিক প্রবণতা— তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তাহলে কি নতুন প্রজন্মের একাংশ ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে? নাকি সচেতনতার ঘাটতি, প্রচারের অভাব কিংবা আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তিই এর কারণ? উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটাধিকার নাগরিক অংশগ্রহণের মূল ভিত্তি। সেখানে নতুন প্রজন্মের অংশ গ্রহণ কম হলে অন্যরকম বার্তা যায়। নতুন ভোটার হওয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে প্রচার করা হয়েছিল। তারপরও এই অবস্থা কেন আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।
এনিয়ে হাবড়ার তৃণমূল বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, এটা কমিশনের ষড়যন্ত্র। পরিকল্পনা করে নতুন ভোটারদের নাম তুলতে দেয়নি অপদার্থ নির্যাতন কমিশন। আগামী দিনে এই চক্রান্তের জবাব মানুষ দেবে। বিজেপি নেতা তাপস মিত্রের দাবি, প্রশাসনের প্রচারের অভাবেই এই সমস্যা হয়েছে। নতুন ভোটারদের কাছে অনুরোধ, গণতন্ত্রের এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ