Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

বঙ্গবন্ধুকে মুছতে মরিয়া ইউনুস সরকার, জন্মদিনে নেই অনুষ্ঠান

বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলতে যে তৎপর ইউনুস সরকার, তার প্রমাণ বারেবারেই মিলছে। সোমবার ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন।

বঙ্গবন্ধুকে মুছতে মরিয়া ইউনুস সরকার, জন্মদিনে নেই অনুষ্ঠান
  • ১৮ মার্চ, ২০২৫ ১৭:০৩

ঢাকা: বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলতে যে তৎপর ইউনুস সরকার, তার প্রমাণ বারেবারেই মিলছে। সোমবার ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালনে কোনও উদ্যোগ নেয়নি। কোনও অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রেও অলিখিত ‘নিষেধাজ্ঞা’ জারি করা হয়। তবে সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এদিন ভোর ছ’টা নাগাদ রাজধানী ঢাকায় মিছিল বের করে আওয়ামি লিগ। তাতে শতাধিক মানুষ যোগ দিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

Advertisement

পাশাপাশি বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজও প্রথমে বাতিল করে দিয়েছিল বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। মহম্মদ ইউনুসের সরকার জানিয়ে দেয়, এবার ২৬ মার্চ রাজধানী ঢাকায় স্বাধীনতা দিবসের কোনও কুচকাওয়াজ হচ্ছে না। প্রথমে স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি বলেছিলেন, ‘গতবার কুচকাওয়াজ হয়নি। এবারও হচ্ছে না। আমরা এখন একটা যুদ্ধাবস্থায় আছি, আনন্দ করার মেজাজে নেই।’ তবে, পরে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ায় পিছু হটতে বাধ্য হয় প্রশাসন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল ইসলাম জানান, রাজধানী ঢাকা ছাড়া বাকি ৬৩টি জেলায় কুচকাওয়াজ আয়োজন করা হবে। ঢাকায় কুচকাওয়াজ না হওয়ার যুক্তি হিসেবে তিনি জানান, ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম সংস্কারের কাজ চলছে। যে কারণে গত কয়েক বছরের মতো এবছরও সেখানে কুচকাওয়াজ আয়োজন করা হবে না।
স্বাধীনতা দিবসে সবচেয়ে বড় কুচকাওয়াজের অনুষ্ঠান আয়োজিত হতো রাজধানীতেই। তা বন্ধ রাখার জন্য স্টেডিয়াম সংস্কারের যে যুক্তি ইউনুস প্রশাসন দিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশি জনগণের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় স্টেডিয়াম ছাড়াও ঢাকা ও সংলগ্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি স্টেডিয়াম রয়েছে। তাই সেখানে অনায়াসে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেতে পারত। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল অন্য একটি যুক্তিও দিয়েছে। তাদের মতে, রীতি অনুযায়ী ঢাকার কুচকাওয়াজে সেনাবাহিনীর অভিবাদন গ্রহণ করে থাকেন রাষ্ট্রপতি। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টাকে অভ্যর্থনা জানানোর দায়িত্বে থাকতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহবুদ্দিনকে কার্যত ‘বয়কট’ করা হয়েছে। ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানেও সাহাবুদ্দিনের মুখোমুখি হননি ইউনুস। তাই কুচকাওয়াজও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু বা আওয়ামি লিগের ভূমিকার কথা উঠতই। তাই সেই ‘অস্বস্তিকর’ পরিবেশও এড়িয়ে যেতে চেয়েছে প্রশাসন। তবে শেষপর্যন্ত সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ ছড়িয়েছে বুঝতে পেরে ঢাকা ছাড়া অন্য জেলায় কুচকাওয়াজের ছাড়পত্র দিতে বাধ্য হয়েছে তারা।

সম্পর্কিত সংবাদ