ঢাকা: তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানি সেনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছিল সাধারণ বাঙালি জনতা। লক্ষ মানুষের সামনে তর্জনী উঁচিয়ে তিনি সদর্পে ঘোষণা করেছিলেন, ‘সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ সেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নাকি ‘মুক্তিযোদ্ধা’ই নন! এমনটাই ঘোষণা করতে চলেছে মহম্মদ ইউনুসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। কারা মুক্তিযোদ্ধার তকমা পাবেন তা নিয়ে বর্তমান আইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা।) নতুন খসড়ায় তারা জানিয়েছে, শেখ মুজিব ও চার জাতীয় নেতা সহ ১৯৭০ সালে নির্বাচনে জয়ী চারশোর বেশি রাজনীতিবিদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি থাকছে না। তাঁরা শুধুই ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’। শুধুমাত্র যাঁরা সরাসরি অস্ত্র হাতে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁরাই মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাবেন। যার অর্থ, বঙ্গবন্ধু আর মুক্তিযোদ্ধার সম্মান না পেলেও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্বীকৃতি বহাল থাকবে। কারণ, মুক্তিসেনা হিসেবে যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন জিয়াউর।
বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার প্রক্রিয়া অনেক আগেই শুরু করে দিয়েছিল ইউনুস সরকার। ইতিমধ্যেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান কার্যত নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভাঙা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর একের পর এক মূর্তি। বাদ যায়নি বই, ছবি। এবার ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবের ভূমিকাকেও অস্বীকার করার উদ্যোগ শুরু হল। যদিও বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী মহলের একাংশ এই নিয়ে আপত্তি তুলেছে। আইন বদলে কারও ভূমিকা অস্বীকার করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়ে দিচ্ছেন তাঁরা। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম অবশ্য দাবি করেছেন, কারও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে না। মুক্তিযুদ্ধে যিনি যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি সেভাবেই স্বীকৃতি পাবেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রাক্তন সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম জানান, মুক্তিযুদ্ধের অস্তিত্বকে মুছে ফেলতে নানা মহল চেষ্টা করছে।
নতুন খসড়া আইনে বলা হয়েছে, শুধু রাজনীতিবিদ নয়, চার শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। যে সব প্রবাসী বাংলাদেশি বিদেশে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জনমত তৈরি করেছিলেন, তাঁরা আর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাবেন না। এছাড়া যুদ্ধ চলাকালীন অস্থায়ী ‘মুজিবনগর সরকার’-এর হয়ে যাঁরা বিভিন্ন দায়িত্ব সামলাতেন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, দেশ ও দেশের বাইরে মুক্তিযুদ্ধের হয়ে সরব হওয়া সাংবাদিকরাও এখন থেকে শুধুমাত্র ‘সহযোগী’ হিসেবে গণ্য হবেন। ‘স্বাধীন বাংলা’ ফুটবল দলের সদস্যরাও মুক্তিযোদ্ধার সম্মান পেতেন। তাঁরাও তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছেন। নতুন আইন কার্যকর হলে অন্তত ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল হয়ে যাবে।