Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

যশস্বী-রাহুলের জুটিতে কোণঠাসা অস্ট্রেলিয়া

যশস্বী-রাহুলের জুটিতে কোণঠাসা অস্ট্রেলিয়া
  • ২৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
পারথ: প্রথম দিনে পড়েছিল ১৭ উইকেট। দ্বিতীয় দিনে পড়ল মাত্র তিন উইকেট! শুক্রবার দেড়শো রানে থামে ভারতের প্রথম ইনিংস। আর শনিবার, সেই পারথেই দিনের শেষে টিম ইন্ডিয়া বিনা উইকেটে তুলেছে ১৭২। অবিশ্বাস্য ছাড়া আর কী! দুই ওপেনার— যশস্বী জয়সওয়াল (৯০ ব্যাটিং) ও লোকেশ রাহুল (৬২ ব্যাটিং) মনে করাচ্ছেন লক্ষ্মণ-দ্রাবিড়ের জুটিকে। লিড এখনই ২১৮। কে ভেবেছিল বর্ডার-গাভাসকর ট্রফির পয়লা টেস্টে এমন আধিপত্য দেখাবে যশপ্রীত বুমরাহর দল?  সাধে ব্যাট-বলের লড়াই চিহ্নিত হয় গৌরবময় অনিশ্চয়তা হিসেবে! 
Advertisement
সকালে যশপ্রীত বুমরাহ আর হর্ষিত রানা মিলে ১০৪ রানে থামিয়ে দেন হোম টিমকে। ভারতের বিরুদ্ধে দেশের মাঠে ১৯৮১ সালের ৮৩’র পর এটাই অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন স্কোর। মিচেল স্টার্ক একশোরও বেশি বল খেলে টিকে না থাকলে অবশ্য আরও আগে শেষ হতো অজিদের ইনিংস। মাত্র ৩০ রানে পাঁচ উইকেট নেন বুমরাহ। ডনের দেশে এটা তাঁর দ্বিতীয়বার পাঁচ শিকার। সার্বিকভাবে টেস্টে সংখ্যাটা ১১। এশিয়ার বাইরে তা কপিল দেবের মতোই ৯টা। ১৯৮৫ সালে অ্যাডিলেডে ১০৬ রানে ৮ উইকেট নেন কপিল। তারপরই কোনও ভারতীয় ক্যাপ্টেনের টেস্টে এটাই সেরা বোলিং। ২০০৭ সালে মেলবোর্নে অনিল কুম্বলের পর কোনও ভারতীয় অধিনায়ক টেস্টে পাঁচ উইকেটও নেননি। এদিন সকালে অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন বুমরাহ। অস্ট্রেলিয়ার বাকি দুই উইকেট নেন হর্ষিত রানা। তিনি ফেরান নাথান লিয়ঁ ও স্টার্ককে। অভিষেকে তিন উইকেট নেওয়া নাইট পেসার পারথে রীতিমতো নজর কাড়লেন।
৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে ভারত। পারথের পিচে প্রথম চার সেশনে পড়েছিল কুড়ি উইকেট। তাই ভারতীয় ব্যাটিং নিয়ে দুরুদুরু আশঙ্কা ছিলই। কিন্তু ঘটল একেবারে উল্টো। পরের দুই সেশনে উইকেটের জন্য মাথা খুঁড়তেই যা বাকি রাখলেন জস হ্যাজলউড, স্টার্ক, কামিন্সরা। ৫৭ ওভার বল করেও তাঁদের ঝুলিতে এল না উইকেট। এমনকী, সাতজন বোলারকে ব্যবহার করেও সঙ্গী হল হতাশা। কেউ কল্পনাও করেননি যে, গতি আর বাউন্সের স্বর্গরাজ্য পারথে অস্ট্রেলিয়াকে এমন হতদরিদ্র দেখাবে সিরিজের দ্বিতীয় দিনেই!
শুক্রবার পারথের পিচকে দেখাচ্ছিল ঘন সবুজ। এদিন সেটাই বাদামিতে পরিণত। গতি ও বাউন্সের যে অহঙ্কার তাতেও পড়েছে টান। যশস্বী তো একবার স্টার্ককে বলেই ফেললেন, ‘বড্ড আস্তে বল করছ হে!’ প্রথম ইনিংসের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আগাগোড়া পরিণত দেখাল বাঁ হাতিকে। ছাড়ার বল ছেড়েছেন, ডিফেন্স করার বল সোজা ব্যাটে খেলেছেন, মারার বল মেরেওছেন। মাঝে মাঝে যে স্বভাবসিদ্ধ বেপরোয়া মেজাজে দেখা যায়নি তা নয়। তবে বড় দাদার মতো সঙ্গে সঙ্গে গাইড করতে পাশে চলে এসেছেন রাহুল। স্টার্ককে স্লগের মেজাজে হাঁকানো ছক্কা বা লিয়ঁকে গ্যালারিতে আছড়ে ফেলার মধ্যে অবশ্য প্রতিভার ঝলকই বিচ্ছুরিত। কেরিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির থেকে মাত্র দশ রানের দূরত্বে তিনি। যশস্বী নিশ্চয়ই আরও বড় রান করতে চাইবেন।
উল্টোদিকে, রাহুল মেলে ধরলেন নিজের ক্লাস। প্রথম ইনিংসে বিতর্কিত আউটের আগে পর্যন্ত জমাট দেখাচ্ছিল। এদিনও টেস্ট ব্যাটিংয়ের বিজ্ঞাপন হয়ে উঠলেন। নামের পাশে প্রাপ্য রানটাও জ্বলজ্বল করছে। কামিন্সকে মারা তাঁর স্ট্রেট ড্রাইভ দিনের সেরা শট তো বটেই, টেস্ট ও সিরিজের সেরাতেও মনোনয়নের যোগ্য। উল্লেখ্য, শনিবারই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন রোহিত শর্মা। তবে রাহুল যেভাবে ব্যাট করছেন, তাতে অ্যাডিলেড টেস্টে অধিনায়ক ফিরলেও ওপেনিং থেকে তাঁকে সরানো মুশকিল। অস্ট্রেলিয়া উইকেট না পেয়ে চেষ্টা করেছিল রান আটকানোর। কিন্তু শেষ দশ ওভারে ৪৬ রান যোগ হয় বোর্ডে। নিশ্চিতভাবেই ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর চাইবেন রানের পাহাড়ে চড়তে। অজি ঔদ্ধত্য চুরমারের এমন মঞ্চ সহজে মেলে না যে! 
সম্পর্কিত সংবাদ