


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অপরাধে যুবককে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিল আদালত। যাদবপুরের বাদিন্দা যুবকের নাম শ্যামল হালদার। সোমবার আলিপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক অঞ্জনকুমার সেনগুপ্ত এই আদেশ দিয়েছেন। সাজার সঙ্গে ৬০ হাজার টাকা জরিমানার, অনাদায়ে এক বছর হাজতবাসের নির্দেশ দেন। অন্য অপরাধেও যুবকটির পৃথক সাজা হয়। তবে আদালতের মন্তব্য, সমস্ত সাজাই একই সঙ্গে চলবে।
সরকারি কৌঁসুলি দেবযানী বসু জানান, ২০১৩ সালের ২১ মার্চ কলকাতার সার্ভে পার্ক থানায় তরুণী যুবকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। পুলিস অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করে। যে হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছিল, সেই হোটেলের রেজিস্টারও পুলিস উদ্ধার করে। তিনি জানান, ছেলেটি একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেখানেই তাঁর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল তরুণীর। পরে সম্পর্ক বাড়তে থাকে। তারই মধ্যে ওই যুবক তাঁকে বিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। অভিযোগকারিণী তরুণীর আইনজীবী বিজয়া চন্দ এদিন জানান, যুবকটি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও তা গোপন করে তরুণীর কাছে। পরে যুবক জানায়, স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদের মামলা চলছে। সেই মামলা মিটে গেলেই তাঁকে সে বিয়ে করবে। অভিযোগ, ওই মামলার জন্য সে তাঁর কাছ থেকে ৬৫ হাজার টাকা অগ্রিম নেয়। মেয়েটিকে বিশ্বাস অর্জনের জন্য একটি চুক্তিও করেছিল। কিন্তু তারপরেও সে ওই টাকা ফেরত দেয়নি। মামলায় সাক্ষ্য দেন মোট ১৭জন। মামলার তদন্ত চলাকালে তরুণীটি একজন বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দিও পেশ করেন। বিচারক রায় দিতে গিয়ে এজলাসে যুবকটিকে বলেন, সরকার পক্ষ আপনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছে, তা সমস্ত দিক থেকে প্রমাণিত হওয়ায় আপনাকে সাজা দেওয়া হল।